বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৩

ইসরাইল রাষ্ট্রের চূড়ান্ত পরিনতী -



M.s. Arman Isca's status.
Israeli n ehudi......
ইসরাইল রাষ্ট্রের চূড়ান্ত পরিনতী -
একটা প্রশ্ন সবার মাথায়ই ঘুর পাক
খায় আর তা হল –
দাজ্জাল এর আত্বপ্রকাশের
পূর্বে আরবে অবস্থিত জোট সেনা (আমেরিকা ও
ব্রিটেন,ফ্রান্স সহ অন্যান্ন Nato ভূক্ত
দেশগুলি) কি সম্পূর্ন রূপে পতন হয়ে যাবে ?
যদি সম্পূর্ন রূপে পতন হয়ে তবে ইসরাইল
থাকবে নাকি শেষ হয়ে যাবে l
প্রথম প্রশ্নের উত্তরে বলতে গেলে – এ
বিষয়ে কিয়ামতের আলামত সংক্রান্ত হাদিস
গুলো অধ্যায়ন করলে পারে বুঝা যায়
যে,এতদাঞ্চলে অবস্থিত সকল দুশমন
সম্পূর্নরূপে পরাজয় বরন করবে l
কেননা সহী হাদিসের
মাধ্যমে একথা প্রমানিত যে,ইমাম
মাহদীর যুগে সম্পূর্ন শান্তি,নিরাপদ ও
স্বচ্ছলতার জীবন ফিরে আসবে l আর
এটি তখনই সম্ভব যখন,ইসলামের
দুশমনেরা এতদাঞ্চল
থেকে সম্পূরনরূপে পলায়ন করে চলে যাবে l
পাশা-পাশি রূম ও কনস্টান্টিপোল বিজয়ের
কথা নবীজির হাদিস দ্বারা প্রমানীত
l এবং আরব অঙ্চলে বিদ্যমান শত্রু পক্ষ
পরাজয় বরন করবে (যারা ১৯৯১
সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের বাহানায় আরব
সাগরের নানা স্থানে সমগ্র আবর
বিশ্বেকে বৃত্তাকারে পরিবেষ্টন করে নৌ/স্থল ও
বিমান ঘাটি গেড়েছে ) l আর বাকি রইল
ইসরাইল প্রসঙ্গ l স্পষ্টতই বুঝা যায়
যে,জোটবদ্ধ কাফেরদের যখন সম্পূর্ন পতন
হয়ে যাবে তখন ইসরাইলের শক্তিও নিঃশেষ
হয়ে যাবে l
দাজ্জালের ব্যাপারে হাদিসে বর্নিত
হয়েছে যে, ‘সে কোন একটি বিষয়ে রাগান্বিত
হয়ে আত্বপ্রকাশ করবে’ l হতে পারে যখন
কূফরী শক্তি সম্যক পরাজ্বয়ের সম্মুক্ষীন
হবে তখন দাজ্জাল গোস্বা আবস্থায়
আত্বপ্রকাশ করে ফেলবে l ফলে পরাজিত
কুফরী শক্তি পূনরায় তার সাথে একত্রিত
হবে l
এখানে আমি ইহুদিদের কিতাব (তাওরাত)
থেকে কতিপয় উদৃতি পেশ করছি,যেখানে পরিষ্কার
ভাবে বলা আছে যে,ইহুদিদের অপকর্মের
কারনে আল্লাহ
তায়ালা ইসরাইল’কে সম্পূর্ন ধ্বংস
করে দিবেন –
যদিয় ইহুদি সম্প্রদায় এসকল
আয়াতে অপব্যাখ্যার আশ্রয় নেয় l
ইসরায়েল অঙ্চলে প্রত্যাবর্তন ও
তা পূর্নতা দেওয়ার জন্য
ইহুদিরা যে দিনটির প্রহর গুনছে, সে দিনের
ব্যাপারে স্বয়ং তাদের কিতাবে বড়
আশ্চর্য ধরনের নকশা টানা হয়েছে l কিন্তু
ইহুদিরা তাদের চিরাচরিত স্বভাব ও
ধোকাবাযীর আশ্রয় নিয়ে এগুলোকে ভূল
অর্থে ব্যাখ্যা করে লোকদেরকে ধোকায় ফেলার
চেষ্টা করে l তাদের কিতাবের ‘ইযাখীল’
অধ্যায়ে বর্নিত হয়েছে –
“ অতপর আল্লাহ তায়ালা বলেন
যে,কেননা তোমরা (ইহুদি সম্প্রদায়) আমার
কাছে অত্যন্ত বখাটে ও লম্পট সাব্যস্ত
হয়েছো l
সূতরাং তোমাদেরকে আমি জেরুজালেমে একত্রিত
করবো l যেমনাকি মানুষেরা স্বর্ন,রৌপ,লোহা
আর টিনকে আগুনে নিক্ষেপ করার জন্য একত্রিত
করে,তেমনি আমিও গোস্বা ও রাগান্বিত
হয়ে তোমাদেরকে সেখানে একত্রিত করবো l অতপর
তোমাদেরকে আমি গলিয়ে দেব l আমি তোমাদের উপর
স্বীয় রোষাগ্নিকে উছলিয়ে দেব l তোমরা এ
অগ্নিতে পুড়ে ভষ্ম হয়ে যাবে l
ফলে তোমা বুঝতে পারবে যে,প্রভূ তোমাদের
উপর স্বীয় গোস্বা অবতরন করেছেন
l” [২২:১৯-২২ ]
তাদের কিতাবের “জেরমিয়া”(Jeremiah)
অধ্যায়ে এর থেকেও বেশি ধমকি বর্নিত হয়েছে –
“তাদের উপর শাস্তি ও ধ্বংস অনির্বার্য
হবার পর … l যার পর তাদের
লাশগুলি খোলা আকাশের
নিচে পড়ে থাকতে দেখা যাবে,সেখানে গাধ
কীড়া-মাকড়ের দল তাদের
লাশগুলো খেয়ে ফেলবে l এমনকি তাদের
বাদশা ও লিডারদের লাশগুলি পর্যন্ত
বিগলীত হয়ে যাবে l
ফলে হাড্ডিগুলো পচা কাষ্ঠের ন্যায়
ছড়িয়ে পড়বে l” [৮:৩]
ইহুদিরা তাদের জেরুজালেমে তাদের একত্রিত
হওয়াকে নিজেদের স্বাধীনতা ও বিজয়
মনে করে থাকে l অথচ তাদের কিতাবের
ভাষ্য অনুযায়ী এখানে একত্রিত
হওয়া তাদের জন্য অচিরেই ধ্বংস ও পতনের
কারন হবে l ইসরাইলের বর্তমান পরিস্থিতিও
বিষয়টিকে সত্যায়ন করে যাচ্ছে যে,ইসরাইল
অঙ্চলে ইহুদিদের আবাদ হওয়া এবং একত্রিত
হওয়া মানেই হচ্ছে ইসরাইলের ধ্বংস
সন্নিকটে হওয়া l সামনের দিন গুলোতে কত
ইহুদিকে ইসরাইলের বিভিন্ন সড়কের ধারে কুকুর-
বিড়ালের ন্যায়
পড়ে থাকতে দেখা যাবে একবার
ভাবুন !! তারা ঐ সকল
ইহুদি যারা সমস্ত পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিল
এবং বুক ভরা আশা আর
বড়ত্বকে সঙ্গে নিয়ে ইসরাইলে এসেছিল l আর আজ
কিনা তাদের স্বপ্নীল এলাটিই তাদের
জন্য জিন্দা কবরস্থান প্রমানীত
হয়েছে …!! {অপেক্ষা করুন সেদিন খুব
বেশি দূরে নয় }
তাদের কিতাব “ইয়ারমিয়াতে” আল্লাহ
তায়ালা বলেন –
বৃক্ষগুলি কেটে ফেল এবং জেরুজালেমের
বিরুদ্ধে একটি কেল্লা নিরমান কর l
এটা হচ্ছে ঐ শহর
যেখানে শ্বাস্তি দেওয়া হবে l এর
ভেতরে অন্যায় অবিচার ভরে উঠেছে l
যেমনাকি ঝর্ণা থেকে পানি ভরে উঠতে থাকে
পাপাচার উথলিয়ে উঠেছে l এর ভেতর
থেকে অত্যাচার আর প্রচন্ড অবাধ্যতার
আওয়াজ ভেষে আসছে l আর আমার (প্রভূর)
সামনে আঘাত ও দূঃখ-দূর্দশার
ধারাবাহীক অশুভ বাতাস আসতে শুরু
করেছে l”
“হে ইহুদি মেয়ে !! ভাল
করে তাকিয়ে দেখো !! উত্তর দিক
থেকে একটি জাতী উঠে আসতে শুরু করেছে l ঠিক
তেমনি যমীনের শেষভাগ থেকেও
একটি জাতীকে উঠিয়ে আনা হবে,তাদের
কাছে তীর আর কামান থাকবে l তাদের
অন্তরে কোনরূপ দয়া-মায়া থাকবে না l
তাদের ধ্বনিগুলো সমুদ্রের তরঙ্গের ন্যায় সব
কিছু তছনছ করে দিবে l ঘোড়ার উপর
চড়ে তারা দ্রুত বেগে দৌড়ে আসছে l যেমন-
মনে হয় তারা তোমাদের সাথে লড়াই
করার জন্য আসছে l
তাদের কিতাব “যীফেনিয়া” (Zephaniah)
তে এসেছে –
“তোমরা নিজেদেরকে একত্রিত কর! হ্যা …একত্রিত
করে নিজেদেরকে হে আল্লাহ’র অপছন্দনীয়
সম্প্রদায় !! আল্লাহ’র
ফয়সালা আসার পূর্বেই অথবা ঐ সময়
আসার পূর্বেই,যখন দিবসগুলি ভূসির মত
উঠে যেতে থাকবে অথবা আল্লাহ’র গযব
তোমাদের উপর নাযীল
হতে থাকবে অথবা আল্লাহ’র শাস্তির দিন
তোমাদের সামনে এসে পড়বে l ”
এই অপবিত্র ও অশুভ সম্প্রদায়ের
ব্যাপারে সর্বশেষ অংশটি “ইযাখীল”
থেকে তুলে ধরা হচ্ছে,যাতে করে ইয়াহুদিদের
পা চাটা গোলামেরা বুঝে নিতে পারে যে,
মনীবতূল্য লোকেরা কতটুকু সম্মানীত ও
ভদ্রতাপরায়ন জাতী l
ইযাখীলে এসেছে –
“তোমরা আমার পবিত্র বস্তুগুলো নষ্ট করেছ
এবং আমার অসংখ্য বিধানকে লাঙ্ছিত
করেছ l তোদের মধ্যেই ঐ সকল লোক
বিদ্যমান,যারা রক্ত প্রভাবীত করার
জন্য বাহানা খুজতে থাকে l তোদের মধ্য
থেকেই তারা বেশ্যালয়
পরিচালনা করে থাকে l তোদের মধ্যেই ঐ
সকল বিদ্যমান,যারা স্বীয় পিতার
লজ্জাস্থান কে খুলে থাকে l তোদের
মধ্যে বিদ্যমান লোকেরাই ঋতুস্রাবরত
মহীলাদের থেকে ভোগ উঠানোর চেষ্টা করে l
কেউ নিজের প্রতিবেশীর সাথে জিনা করে,কেউ
আপন বোনের সাথে খারাপ আচরন
করে থাকে,কেউ শালীর
সাথে প্রেমবাহানা করে থাকে,আর কেউ
নিজের বাপের মেয়ের সাথে ব্যাভিচার
করে থাকে l তারা সূদ গ্রহন
করে ফুলে উঠতে থাকে l তাদের
পথপ্রদর্শনকারীরা(ইহুদি আলেম সমাজ)
আমার বিধান নিয়ে ছিনী-মিনী খেলতে থাকে l
তারা লোকদেরকে ভূল পথে পরিচালীত
করে থাকে এবং আমার নাম
নিয়ে মিথ্যা ভ্রষ্ঠ পথ অবলম্বন করে থাকে l
তারা বলে যে,এটাই আল্লাহ’র আদেশ,অথচ
আল্লাহ তায়ালা কখনই এমনটি আদেশ
করেননি l” “ইযাখীল [২২:১-৯]”(ডক্টর ছফর
আল হাওয়ালী কতৃক রচীত ‘দি ডে অফ
রিথ’ এর অনুবাদ_ ﻱ
ﺐﻀﻐﻟﺍ থেকে সংগৃহীত)
কূরআন এ বর্নিত হয়েছে যে, _ ﺪﻋﻭ ﺀﺎﺟ ﺍﺫﺈﻓ
ﺎﻤﻬﻟﻭﺃ ﺎﻨﺜﻌﺑ ﻢﻜﻴﻠﻋ ﺎﻨﻟ ﺍﺩﺎﺒﻋ ﻲﻟﻭﺃ
ﺱﺄﺑ ﺵ
ﺍﻮﺳﺎﺠﻓ ﺭﺎﻳﺪﻟﺍ ﻞﻠﺧ .
অর্থাৎ - “হে বনী ইসরাইল
সম্প্রদায় ! যখন ঐ দুটি প্রতিস্রুত সময়ের
মধ্যে একটি এসে পড়বে,তগন আমি তোমাদের উপর
আমার এমন যুদ্ধবায বান্দাদের প্রেরন
করবো,যারা তোমাদের বস্তিগুলোর
অভ্যন্তরে ঢুকে পড়বে l”
ঐ যুদ্ধবায সম্প্রদায়ের
সম্পর্কে হাদিসে বর্নিত
হয়েছে যে,তারা খোরাসান(আফগানিস্থান)
এর দিক থেকে এসে কাফেরদের সাথে যুদ্ধ
করবে l


শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৩

নরখাদক নরেন্দ্র মোদির ইতিহাস কি মুসলমান ভুলে যাবে



আমার দ্বিতীয় নোট: নরখাদক নরেন্দ্র মোদির ইতিহাস কি মুসলমান ভুলে যাবে??

  ----------Des Wa  24 October 2013 at 18:59
আমার এ নোটখানা আপনাদের কাছে এখন অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও কিছুদিন পরে তা খুবই প্রয়োজনীয় বলে মনে হবে। মুসলমানদের একটা বিশেষ স্বভাব হচ্ছে, তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না। যার ফলাফলও তারা পায় নিয়মিত ।
আগামী ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে দাড়াতে যাচ্ছে নরখাদক নরেন্দ্র মোদি। অনেকের ধারণা মোদি সম্ভবত নেক্সট ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।
যেহেতু ভারতে একটি বড় অংশ মুসলমান (সরকার দাবি করে ১৮ কোটি, প্রকৃত সংখ্যা এর দ্বিগুনও হতে পারে) এবং মোদি যেহেতু ‘এন্টি মুসলিম’ তাই মোদিও চাইবে নির্বাচনে জয় পেতে মুসলমানদের তার দলে ভিড়াতে। তাই কিছুদিন পর হয়ত আপনারা দেখতে পারবেন কিছু মুসলমান নামধারী মুনাফিক মোদির পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করেছে। হয়ত দেখতে পাবেন, তারা ইসলামের নাম দিয়ে বলছে “মোদির থেকে ইসলাম প্রিয় আর কেউ নাই, কিংবা মোদির সময় মুসলমানরা সবচেয়ে ভাল থাকে” ইত্যাদি ইত্যাদি।
(আমাকে আবার কংগ্রেসের সাপোর্টার ভাববেন না, ওটাও সেক্যুালার লেভেল আটা খাঁটি হিন্দুত্ববাদী)



বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় সভাপতি রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি। ছবি: রয়টার্স

আসুন, উগ্রহিন্দুত্ববাদী বিজেপি সম্পর্কে জানি
আমার মনে হয় নতুন করে বিজেপি বা ভারতীয় জনতা পার্টিকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মত কোন কারণ নেই। তবু বলছি, উগ্রহিন্দুত্ববাদী সংঘ পরিবার বা আরএসএস’র রাজনৈতিক উইং হচ্ছে বিজেপি (আরেকটি হচ্ছে শিবসেনা)। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ দলটি বর্তমানে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল (কংগ্রেসের পরে)। এ দলটি ভারতে সব সময়ই মুসলিম নিধনে অগ্রগামী। অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভাঙ্গন ও তার পরবর্তী দাঙ্গা কিংবা গুজরাট দাঙ্গার মত বড় দাঙ্গাগুলো তাদের ক্ষমতার আমলেই ঘটনো হয়েছিল।
দলটির প্রত্যেক সভাপতি চাক্ষুষ হিন্দু রাক্ষস। বিজেপি’র তিনবারের সভাপতি লাল কৃষ্ণ আদভানি কিছুদিন পূর্বে বলেছিল: “বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে দেয়া হবে”।
আর এবার সেই বিজেপির আরেক কুখ্যাত সদস্য নরেন্দ্র মোদিকে দেয়া হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে দাড়াতে।

মোদির সংক্ষিপ্ত জীবনী


গুজরাটের মেহসানা জেলার এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জন্ম নরেন্দ্র মোদি’র। চা-বিক্রেতা বাবার চার সন্তানের মধ্যে মোদি ছিলো তৃতীয়। শৈশবে বাবাকে সাহায্য করতো বেদনগর রেলস্টেশনে; যাত্রীদের কাছে হেঁটে হেঁটে চা বেচতো মোদি।
পরিচিতজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশু বয়স থেকেই মোদি ছিল একজন গোড়া হিন্দু। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, টানা চার দশক ধরে ‘নবরাত্রি’র (উত্তর ভারতে পালিত হিন্দুদের একটি উৎসব) সময় উপবাস করছে মোদি।
জীবনীগ্রন্থ রচয়িতা নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের মতে, কম বয়সে বিয়ে করে মোদি। তবে বিয়ে করার বিষয়টি প্রকাশও করেনি সে। এর পেছনে একটি বড় কারণ ছিল হিন্দু উগ্রবাদী সংগঠনগুলো স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ‘প্রচারক’ পদ। আর এ পদ পেতে গেলে চিরকুমার থাকতে হয়। গোপনীয়তা বজায় না রাখলে হয়তো ওই পদে আসীন হতে পারতো না সে। ১৯৭১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আরএসএসে যোগ দিয়েছিল মোদি।
রাজনীতিতে জড়ানোর পরও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করে মোদি। পরে গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে সে।
১৯৮৭-৮৮ সময়ে মোদি বিজেপির গুজরাট ইউনিটের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হয়। মূলত, এর মধ্য দিয়েই মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করে সে।
দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জেরে ধীরে ধীরে বিজেপিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করেন মোদি। ১৯৯০ সালে তিনি আদভানির নেতৃত্বে সোমনাথ থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত রথযাত্রায় বড় ভূমিকায় ছিলো।
১৯৯১ সালে তৎকালীন দলীয় প্রধান মুরলি মনোহর যোশির নেতৃত্বে কন্যাকুমারী-শ্রীনগর একতা যাত্রারও অন্যতম সংগঠক ছিলো মোদি।

মুসলমানদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতা:


২০০১ সালে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কেশুভাই প্যাটেলকে সরিয়ে দিল্লি অফিসের এক নাম জানা পদাধিকারী নরেন্দ্র মোদিকে দায়িত্ব দিয়েছিল বিজেপি। তাকে সাপোর্ট দিয়েছিল লালকৃষ্ণ আদভানি। সাময়িক ক্ষমতা পাওয়ার পর তা পাকাপোক্ত করতে মুসলমানদের রক্তকে বেছে নিয়েছিল মোদি। মুসলমানদের রক্ত দেখলে হিন্দুরা খুশি হবে, আর তাতেই ক্ষমতা আসবে তার হাতে। হয়েছিলও তাই, গোধরার ট্রেনে নিজেরাই আগুন লাগিয়ে তার দোষ দিয়েছিল মুসলমানদের ঘাড়ে। মেরে কেটে একাকার করেছিল মুসলমানদের, ধর্ষণ করে আগুনে পুড়িয়েছিল মুসলিম মা-বোনদের, তাড়িয়ে দিয়েছিল মুসলমানদের বাড়ি থেকে। আর এই মুসলিম নিধনেই হিন্দুদের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠল এ হিন্দুউগ্রবাদী নেতা। ২০০২ থেকে বর্তমান পর্যন্ত টানা তিন বার (প্রথমবার সহ চারবার) বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলো এ সন্ত্রাসী ।

গুজরাট দাঙ্গার খলনায়ক মোদি:


২০০২ সালে মোদীর জনতা পার্টি যে মুসলিম নিধনে প্রত্যক্ষ জড়িত ছিল তার বহু দলিল রয়েছে। দাঙ্গার সময় মোদীর সহযোগী ভিএইচপি’র নেতারা উগ্র বক্তব্য দিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করে তুলছিল। এই ভিএইচপি নেতাদের মোদীর সরকার বাধাতো দেয়ই নাই বরং সহযোগিতা করেছে।


সেই সময় দায়িত্বরত পুলিম কর্মকর্তা সঞ্জিব ভাট ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টের কাছে তার হলফনামায় বলেছিল, ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গোধরা কা-ের পর নরেন্দ্রমোদি পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়, হিন্দুরা মুসলমানদের প্রতি যেন তাদের ক্ষোভ মেটাতে পারে, পুলিশকে সে ব্যবস্থা করে দিতে হবে। ভাট এক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদির নির্দেশ সরাসরি তুলে ধরে যাতে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী মোদি বলেছিলো, “মুসলমানরা যাতে পুনরায় এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে না পারে, সেজন্য তাদেরকে উচিত শিক্ষা দেয়ার এটি মোক্ষম সময়।”

 
এ বক্তব্যের পর ২৮শে ফেব্রুয়ারী ২০০২ তারিখে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের মাত্র ৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১৫০ জন মুসলমানকের আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে উগ্র হিন্দুরা। আর দাঙ্গায় মূল প্রাণহানী প্রথম কয়েকদিনে হলেও, প্রায় তিন মাস ধরে চলে লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে হত্যা, ধর্ষণ ও বাস্তুচ্যুত করা হয়।

গুজরাটের গোধরা দাঙ্গার প্রথম দিনেই (২৮ ফেব্রুয়ারী ২০০২) যখন শহরের বিভিন্ন স্থান আগুনে পুড়ছিল, মারা যাচ্ছিল শত শত মুসলিমকে, তখন রাজ্যের
CMO পি কে মিশ্র দাবী করে “শহর একেবারে স্বাভাবিক!” তাকে যখন বলা হয় প্রাক্তন কংগ্রেস এমপি এহসান জাফরি এই দাঙ্গায় নিহত হয়েছেন তখনও তার উত্তর ছিল যে এরকম কিছুই ঘটেনি।
মোদী যদিও সবসময় বলে আসছিল যে গুজরাটের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গাটা ছিল তাৎক্ষণিক, কিন্তু দেখা গেছে এতে তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এর মহিলা ও শিশু উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী কোদনানীকে আদালত ২৮ বছর জেল দেয় দাঙ্গা উস্কে দেয়ার জন্য, যাকে মোদী পুরুষ্কার স্বরূপ ক্যাবিনেট মিনিস্টার হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল

গুজরাটে মুসলিম নিধন সম্পর্কে মোদির বক্তব্য: কুুকুর মরলে দু:খ পাবো
ভারতের গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০০২ সালের মুসলিম বিরোধী দাঙ্গার জন্য অনুতপ্ত নয় বলে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে মোদি বলেছে, তাকে বহনকারী মোটরগাড়ি কোনো কুকুর ছানাকে চাপা দিলে সে জন্য দুঃখ অনুভব করবে সে। রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মোদি আরো দাবি করে, আমি যদি অপরাধ করে থাকতাম তবে অনুশোচনায় ভুগতাম।
মোদির এ বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে সমাজবাদী পার্টি। এ বক্তব্যের জন্য মোদিকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে এ দলের মুখপাত্র কামাল ফারুকি বলেছে, “মোদি কি মনে করে ভারতের মুসলমানরা কুকর ছানার চেয়েও অধম?”

মোদিকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দেয়ার শর্ত ‘উগ্রহিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠা তথা মুসলিম নিধন”
সঙ্ঘ পরিবার বা আরএসএসকে মোদী জানিয়েছে, তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হলে হিন্দুত্বের কর্মসূচিকে সে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেবে। আরএসএস চাইছে, রামমন্দির নির্মাণ, সংবিধানের ৩৭০ ধারা (জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা) বিলোপ ও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এই তিনটি সাবেক বিষয়কে বিজেপি ফের সামনে নিয়ে আসুক। সেই সঙ্গে গরু কুরবানী বন্ধের বিষয়টিকেও কর্মসূচিতে আনা হোক। মোদি স্পষ্ট করে বলেছে,  মতাদর্শগত এই সব বিষয়কে সে প্রচারে অগ্রাধিকার দেবে।

আমি আবারো বলছি, এই ইতিহাসটা আপনার সংগ্রহে রাখুন। কিছুদিন পরেই এটা আপনাদের বিশেষ কাজে লাগবে। কারণ ক্ষমতা আর টাকার লোভে একদল দাড়ি-টুপি ওয়ালা লোক মোদির এই অপকীর্তিসমূহ অস্বীকার করতে চাইবে। বিভিন্ন যুক্তিতর্ক দিয়ে সন্ত্রাসী নরেন্দ্র মোদিকে ভাল বানাতে চাইবে। তখন আমার এ নোটের কথা মনে করবেন। (গরীবের কথা বাসি হলে ফলে)