শনিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১৩


বিষয়ঃ ধর্মীয় ভবিষ্যৎবানীর পাশাপাশি শ্রেষ্ঠ দ্বিমুখী সংগঠন 'জাতিসংঘের' রিপোর্টের কি অপরূপ মিল

কারণ, আল্লাহ জমিনে যখন কোন কিছু ঘটাতে চান, উনি তার প্রেক্ষাপট তৈরি করেন, তা যে নামেই হোক আর যার দ্বারাই হোক।

ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তানের পর যেই অঞ্চলগুলোতে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভবিষ্যতবাণী সংক্রান্ত সংঘাতময় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট তৈরি বা সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো এই অঞ্চলসমূহঃ

১। হাদিসে উল্লেখিত 'জাজিরাতুল আরব' কে ইংরেজিতে Arabian Peninsula বলা হয়। জাতীয়তাবাদের ছোঁয়া পেয়ে রঙ্গিন পতাকাবাহী ভূখণ্ডগুলো হচ্ছেঃ সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান, ইয়েমেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত। (এদের ভিতরে কুয়েত ইতিহাসের পাতা ঘাঁটলে দেখা যায় ইরাকের অংশ, এখন নিজেদেরকে 'জাজিরাতুল আরব' এর অংশ বলে দাবী করে)।

২। হাদিসে উল্লেখিত 'হিন্দ' কে ইংরেজিতে Indian Subcontinent বলা হয়। জাতীয়তাবাদের ছোঁয়া পেয়ে রঙ্গিন পতাকাবাহী মূল ভূখণ্ডগুলো হচ্ছেঃ ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ। সেই সাথে আছে নেপাল, শ্রীলংকা ও ভুটান।

জাতিসংঘের রিপোর্টঃ

পানি নিয়ে সংঘাতে জড়িয়ে পড়বে ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ (হাদিসে উল্লেখিত 'হিন্দ')

http://www.amaderrshomoy.com/content/2013/12/29/middle0776.htm 


সেই সাথে আমার এই লিখাটি না পরলেই নয়ঃ
http://www.amin-baig.blogspot.com/2013/09/blog-post_17.html



শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর, ২০১৩

knowing Jews(ইহুদী).


Be a pure Muslim, about knowing Jews(ইহুদী)... 
 
অস্ট্রেলিয়ায় আমার যে প্রথম ফ্রেন্ড, বলতে গেলে বেষ্ট ফ্রেন্ড ছিলো, সৌদি একটা মেয়ে, UWSC তে ক্লাস করার সময় দুইজনে প্রতিদিন পাশাপাশি বসতাম। আমি আগে গেলে আমি ওর জন্য সিট রাখতাম, ও আগে গেলে ও আমার জন্য সিট রাখতো। কিন্তু একদিন স্রেফ একটা ইস্যুতে দু'জনের মধ্যে এমন কথা কাটাকাটি হলো, এরপর থেকে ও আর আমার সাথে কথাই বলতো না। ইস্যুটা ছিলো 'ইহুদী'। ও প্রত্যেকটা ইহুদীদেরকে 'শূকর' ছাড়া কথাই বলবেনা। আর আমার পয়েন্ট ছিলো, ইহুদীদের সাথে আমার কোনো সমস্যা নাই, কোরান শরীফে ওদেরকে আহলে কিতাব বলেছে, শ্রদ্ধা করে কথা বলেছে। আমি যেমন মানুষ একজন ইহুদীও তেমনই মানুষ। কিন্তু আমার সমস্যা Zionist-Jews দের সাথে যাদের বর্তমান লক্ষ্যই হলো যে কোনো মূল্যে ইসরাঈলকে রক্ষা ও সম্প্রসারণ করা এবং পৃথিবীর উপর ইহুদীদের কন্ট্রোল প্রতিষ্ঠা করা।
------------------------------------
গতপরশু খবরে না দেখলে আমি জানতামই না যে এমেরিকার নিজস্ব একটা law-ই আছে যদি UN এর কোনো শাখা-প্রশাখা প্যালেষ্টাইনকে সদস্য করে নেয় বা স্বীকৃতি দেয়, তাহলে বাই-ল' এমেরিকা সেই শাখা-প্রশাখা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য। তারমানে হলো, এমেরিকা ল' করে রেখেছে যে তারা UN এর কোনো কিছুতেই প্যালেষ্টাইনকে স্বীকৃতি দিবেনা! রিসেন্টলি UNESCO প্যালেষ্টাইনকে মেম্বার করে নিয়েছে তাই এমেরিকা আর ইসরাঈল UNESCO কে তাদের দেনাও পরিশোধ করেনি এবং পরিনামে নিজেদের ভোটিং পাওয়ার হারিয়েছে।
---------------------------------------
খবরটা আপনার আমার জন্য হয়তো কিছুই না, আবার চিন্তা করলে অনেক কিছুই।
আমরা চাই বা না চাই, আমাদের বর্তমান পৃথিবীর রাজনীতি এবং সমাজের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ন্ত্রিত হয় Zionist দের দ্বারা। উপরের খবরটাতেই বুঝতে পারছেন এমেরিকার মত সুপারপাওয়ার কেমন প্রভুভক্ত কুকুরের মত লেজ নাড়ে ইসরাঈলের সামনে।
---------------------------------------------------------------
আপনি যদি বিশ্বাস করেন চোখের সামনে অন্যায় দেখলে তার প্রতিবাদ করা একজন মানুষের কমন-রেস্পনসিবিলিটি তাহলে প্যালেষ্টাইন-ইসরাঈল ইস্যুতে পৃথিবীর প্রতিটা মানুষ moral এবং ethical দিক থেকে দায় নিতে বাধ্য। কারন আমাদের চোখের সামনে পৃথিবীর সবচে' জঘন্য ডাকাতি, এই সেই না, খুন-খারাবী-টর্চার যা করা সম্ভব সবকিছু করে পুরা একটা দেশের জমি ডাকাতি হয়ে গেলো (http://www.worldliteraturetoday.org/2012/may/no-ordinary-place-writers-and-writing-occupied-palestine-rima-najjar-merriman#.Un6neOL4WSo), আর আমরা 'ধুর, এর সাথে আমার কী সম্পর্ক' ভাবছি এখনো।
---------------------------------------
আমি zionistদের ক্ষমতা-অবস্থান-স্ট্রাটেজী এসব নিয়ে কিছু কিছু জানলেও এই বছরের শুরু দিকে নিজে এমেরিকায় নিউয়র্কে বসে খোদ একজন NYPD cop'র মুখে যদি না শুনতাম, অন্যরা আমাকে বললে হয়তো চিন্তা করতাম, ধুর এটা স্রেফ প্যারানয়া। কিন্তু সেই cop নিজের মুখে বললেন, কীভাবে নিউয়র্কের পুলিশ ডিপার্টমেন্ট ইহুদীদের ব্যপারে অলিখিত, মুখে না বলা কিছু রুলস স্ট্রিক্টলি ফলো করে। যে এলাকাগুলো ইহুদীদের সংখ্যা গরিষ্ঠতা, সেই এলাকাগুলোতে সব পুলিশের ডিউটি পড়েনা, ওখানে কাদের ডিউটি পড়বে তা উপর থেকে নির্ধারন করা হয়। কোনো ধরনের পুলিশের দরকার পড়লে যে কোনো পুলিশ ওখানে যাবেনা, কারা যাবে তা আগে থেকেই ঠিক করা থাকে। ইহুদীদের এলাকায় কোনো পুলিশ যদি কোনো ইহুদীকে ধরুন ছোটখাটো কোনো কারণে যেমন ধরুন গাড়ী উলটাপালটা পার্ক করার কারণে ফাইন করে, আর সে পুলিশ যদি ঐসব 'নির্দিষ্ট' পুলিশদের একজন না হয়, তাহলে সে পুলিশ পরদিন বা তারপরদিন কাজে এসে দেখবে সে নিউয়র্কের সবচে খারাপ এলাকাগুলোর একটাতে ট্রান্সফার হয়ে গেছে। ইহুদীদের জন্য এমনকি হসপিটালে পর্যন্ত আলদা র‍্যাংকের ট্রিটমেন্ট ফ্যাসিলিটিজ থেকে শুরু করে ব্যাংক বলুন, এয়ারপোর্ট বলুন, পুলিশ স্টেশান বলুন, সরকারী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বলুন, নিইউয়র্কের ইহুদীরা অনেক ক্ষেত্রেই আলাদা লাইন, দ্রুত প্রসেসিং সহ এমন সব প্রিভিলেজ পায়, সেই cop এর নিজের মুখের কথা 'নিজে পুলিশে চাকরি না করলে জীবনেও হয়তো অন্য কেউ বললে এসব বিশ্বাস করতাম না'।
------------------------------------------------------------
al jazeera'র ডকুমেন্টারী 'kill him silently' (http://www.aljazeera.com/programmes/aljazeeraworld/2013/01/201312210472621589.html) দেখলে টের পাওয়া যায় Mossad (ইসরাঈলী স্পাই এজেন্সী)'র কাজ কর্ম কতটা সফেস্টিকেটেড আর ডেঞ্জারাসলি মোটিভেটেড।
--------------------------------------------
এ মাসের ছয় তারিখের একটা আলোচিত ইন্টারন্যাশনাল খবর- Swiss forensic report বলেছে, প্যালেষ্টাইনের জনপ্রিয় নেতা ইয়াসির আরাফাতের মৃত্যু স্ট্রোক থেকে হয়নি, he was poisoned with radioactive polonium.
ইন্টারেষ্টিং, কী বলেন?
জয়তু ইসরাঈল!
জয়তু মোসাদ!
আসুন এমেরিকার মত আমাদের অদৃশ্য লেঞ্জাটাও আমরা তু তু করে নাড়াই! প্যালেষ্টাইন মরুক বাঁচুক, আমাদের কী?!



সোমবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৩

দাজ্জালের হাতে যুবক হত্যার হাদিস ও এক শিশুর জন্ম



দাজ্জালের হাতে যুবক হত্যা হবার হাদিস ও ২০০৪ সালে এক শিশুর জন্ম

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে বুসর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“মহাযুদ্ধ ও কুস্তুন্তুনিয়া (ইস্তাম্বুল) জয়ের মধ্যখানে সময় যাবে ছয় বছর। সপ্তম বছরে দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করবে”।
(ইবনে মাজা, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩৭)

নবীজি (সাঃ) বলেন, ‘দাজ্জাল দুনিয়াতে অবস্থান করবে চল্লিশ দিন। প্রথম একটি দিন এক বছরের সমান হবে। দ্বিতীয় দিনটি এক মাসের সমান হবে। তৃতীয় দিনটি এক সপ্তাহের সমান হবে। অবশিষ্ট দিনগুলো সাধারণ দিনের মতো হবে’।
(সহিহ মুসলিম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২২৫০)

অর্থাৎ ৩৬৫+৩০+৭+৩৭=৪৩৯ দিন।

হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক বর্ণনা করেছেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 'দাজ্জাল আত্মপ্রকাশ করলে ঈমানদার ব্যক্তিদের মধ্যে এক ব্যক্তি তার কাছে যাবে। তার সাথে দাজ্জালের প্রহরীদের দেখা হবে।

তারা তাকে বলবে, ‘কোথায় যাওয়ার ইচ্ছা করছ’?
সে বলবে, ‘আমি এই আবির্ভূত ব্যক্তির কাছে যেতে ইচ্ছা করছি’।
প্রহরীরা বলবে, ‘আমাদের রবের প্রতি কি তোমাদের ঈমান নেই’?
সে বলবে, ‘আমাদের রবের ব্যাপারে তো কোনরূপ গোপনীয়তা নেই’।
তারা বলবে, ‘একে হত্যা কর’।
কিন্তু এদের মধ্যে কেউ কেউ বলাবলি করবে, ‘তোমাদের রব কি তোমাদেরকে তার অগোচরে কোন ব্যক্তিকে হত্যা করতে নিষেধ করেননি’?

সুতরাং তারা তাকে দাজ্জালের কাছে নিয়ে যাবে। যখন মু’মিন ব্যক্তি দাজ্জালকে দেখবে তখন বলবে, ‘হে লোক সকল! এই তো সেই দাজ্জাল যার প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলে গেছেন’।

এরপর দাজ্জালের নির্দেশে তার দেহ হতে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হবে। তার পেট ও পিঠ উন্মুক্ত করে পিটানো হবে আর বলা হবে, ‘তুমি কি আমার প্রতি ঈমান স্থাপন কর না’?
উত্তরে মু’মিন ব্যক্তি বলবে, ‘তুমিই তো সেই মিথ্যাবাদী মাসীহ দাজ্জাল’।

সুতরাং তার নির্দেশে মু’মিন ব্যক্তির মাথার সিঁথি হতে দু’পায়ের মধ্য পর্যন্ত করাত দিয়ে চিরে দু’টুকরা করা হবে। দাজ্জাল তার দেহের এ দুই অংশের মধ্য দিয়ে এদিক হতে ওদিকে গমন করবে। এরপর সে মু’মিন ব্যক্তির দেহকে সম্বোধন করে বলবে, ‘পূর্বের মত হয়ে যাও’।
তখন সে আবার পরিপূর্ণ মানব হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। আবার সে বলবে, 'এখন কি তুমি ঈমান পোষণ কর?'
মু’মিন মানবটি বলবে, ‘তোমার সম্পর্কে এখন আমি আরো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জন করলাম’।
সে মানবদেরকে ডেকে বলবে, ‘হে মানবমণ্ডলী! আমার পর এ আর কারো কিছু করতে পারবে না’।

দাজ্জাল পুনরায় তাকে হত্যা করতে চাইবে। কিন্তু আল্লাহ তার ঘাড়কে গলার নিচের হাড় পর্যন্ত পিতলে মুড়িয়ে দেবেন। ফলে সে তাকে হত্যা করার আর কোন উপায় পাবে না। বাধ্য হয়ে সে তার দু’হাত ও দু’পা ধরে ছুঁড়ে ফেলবে। মানুষে ধারণা করবে দাজ্জাল তাকে আগুনে নিক্ষেপ করেছে। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে সে বেহেশতে নিক্ষিপ্ত হবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘এই ব্যক্তি বিশ্ব জগতের রব আল্লাহর কাছে মানবের মধ্যে সবচেয়ে উন্নত স্তরের শহীদের মর্যাদা লাভ করবে’।

(মুসলিম শরীফ)

এখন আপনাদেরকে আমি একটি বিস্ময়কর ঘটনা জানাতে চাই। গত ২০০৮ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারী প্যালেস্টাইনের টিভি চ্যানেল আল আকসা (Al Aqsa TV) তে সেখানকার একজন আলেম ঈসা বাদওয়ান এক সাক্ষাতকারে এক বিস্ময়কর তথ্য দেন। যা নিশ্চিতভাবে মুসলিম জাহানের জন্য ভাবার বিষয় এবং সতর্কবার্তা।

এখানে সাক্ষাতকারের অংশটি তুলে ধরছি।

ঈসা বাদওয়ানঃ একজন লোক, যাকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি এবং বিশ্বাস করি, সঙ্গত কারণেই আমি তার নাম বলতে চাচ্ছি না – তো তিনি একদিন রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে একজন বৃদ্ধ স্ত্রীলোক তাকে থামালো এবং ঐ স্ত্রীলোককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করল। কারণ, ঐ বৃদ্ধার মেয়ে ঐ হাসপাতালে সন্তান প্রসব করেছে। লোকটি ঐ বৃদ্ধার অনুরোধটি রাখল এবং তাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়ে হাসপাতালের বাইরে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করল। এক ঘণ্টা করে ঐ বৃদ্ধা তার মেয়ে এবং মেয়ের নবজাতক শিশুপুত্রকে নিয়ে বের হয়ে গাড়িতে উঠল। যখন তারা গাড়িতে উঠল, তখন ঐ নবজাতক সবাইকে অবাক করে দিয়ে সালাম দিল। আমরা অবাক হয়ে সালামের উত্তর দিলাম।

সাক্ষাতকার গ্রহণকারীঃ নবজাতক কথা বলে উঠল?

ঈসা বাদওয়ানঃ হ্যাঁ, নবজাতক শিশুটি। এবং আমরা এটা শেখ নিজারসহ অন্যান্য আলেমকে জানিয়েছিলাম তখন। তো লোকটি যা বলল তা হল যে, শিশুটি বলল, “আমিই হলাম সেই বালক যাকে দাজ্জাল হত্যা করবে, এরপরে আর কাউকে সে হত্যা করতে পারবে না।” এবং আমরা হাদিস থেকে জানি যে, দাজ্জাল যাকে হত্যা করে জীবিত করবে এবং আবার হত্যা করবে কিন্তু পরে আর জীবিত করতে পারবে না। সে হবে একজন যুবক। যাকে শ্রেষ্ঠ শহীদ বলা হয়েছে। আর যুবক বলতে ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সকেই বুঝায়।

আমি মনে করি, এই ঘটনা আমাদের জন্য অনেক খুশির খবর বহন করে। কারণ, আমরা হাদিস থেকে জানি যে, দাজ্জালের আগমন ঘটবে ইমাম মাহদির উপস্থিতিতে ইস্তাম্বুল জয়ের পর।

সাক্ষাতকার গ্রহণকারীঃ এখন সেই বাচ্চার কি অবস্থা?

ঈসা বাদওয়ানঃ হ্যাঁ, এখন আমরা আলেমরা তাকে চিনি। এবং আমরা তার খেয়াল রাখছি। আমি সব মানুষকে এবং সব আলেমদেরকে জানাতে চাই যে, বিজয় অতি নিকটে। ইমাম মাহদি এখন আমাদের মাঝেই অবস্থান করছে (এই বাচ্চার জন্মের উপর ভিত্তি করে)। ইনশাল্লাহ, প্যালেস্টাইনবাসী, খুব শিগগিরই এ বিজয়ের সাক্ষী হবে এবং এই ধর্মকে (ইসলামকে) ও এর আলোকে ছড়িয়ে দিবে।

(সাক্ষাতকারের অংশ বিশেষ শেষ)

এই শিশুটির জন্ম হয় ২০০৪ সালে। আর উদ্বিগ্নের বিষয় হল, ২০০৮ সালে এই সাক্ষাতকার জনসম্মুখে প্রকাশ হবার কয়েক মাস পর ২০০৮/২০০৯ সালে ইসরাইল রাসায়নিক গ্যাস প্রয়োগ ও বোম্বিং শুরু করে ১৪০০ শিশু হত্যা করে এবং প্রায় ৪০০০ শিশুকে আহত করে। শুধু তাই নয়, ইসরাইল এই সাক্ষাতকারে উল্লেখিত আলেম শেখ নিজারকে হত্যার উদ্দেশ্যে সাক্ষাতকারের ১১ মাস পরে এফ ১৬ (F-16) বিমান দিয়ে ২০০০ পাউন্ডের বোমা নিক্ষেপ করে। যার ফলে শেখ নিজার তার চার স্ত্রী ও এগার সন্তানসহ শহীদ হন। শেখ নিজার ছিলেন গাজার অন্যতম প্রভাবশালী আলেম। তিনি মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় ও ইমাম সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় হতে দ্বীন শিক্ষা লাভ করেন। এর পাশাপাশি তিনি ইসরাইলের সাথে যুদ্ধরত আল কাসসাম মুজাহিদ ব্রিগেডের একজন দায়িত্বশীল কমান্ডারও ছিলেন।

যদি ২০০৪ জন্ম গ্রহণকারী এই বাচ্চাই যদি সেই সে যুবক হয়, তবে সে ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সী যুবক হবে ২০২৫ থেকে ২০২৯ সালে। দাজ্জাল দুনিয়াতে আত্মপ্রকাশের পর ৪৩৯ দিন বা এক বছরের একটু বেশি সময় অবস্থান করবে এবং এই সময়ের মধ্যে যুবককে হত্যা করবে। মহাযুদ্ধের সপ্তম বছরে যেহেতু দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হবে, তাতে মহাযুদ্ধের সম্ভাব্য সাল আসে ২০১৮ থেকে ২০২২। আর মহাযুদ্ধ ইমাম মাহদির উপস্থিতিতেই হবে।

যা হোক, এগুলো সবই শুধু ঐ বাচ্চার দাবীর উপর ভিত্তি করে হাদিসের মাধ্যমে গণনা। কিন্তু একমাত্র আল্লাহই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে জানেন।

তবে, অবশ্যই সতর্ক বিশ্বাসী বান্দা হিসাবে আমরা আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোকে হাদিসের আলোকে বিশ্লেষণ করব এবং সজাগ দৃষ্টি রাখবো হাদিসে বর্ণিত মুসলিম ভূখণ্ডগুলোর প্রতিটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সর্বোপরি সামরিক পরিস্থিতির উপর।


  http://www.amin-baig.blogspot.com/2013/11/blog-post_4.html

  http://www.youtube.com/watch?v=ZdvCAjZ0JV8

 http://www.youtube.com/watch?v=aM8wWiDPhVg
 
 ইমাম মাহদির আগমনের দিনটিকে দাজ্জালি মিডিয়া কেমনভাবে বিশ্বে সংবাদ হিসাবে প্রচার করবে?

কাফেররা মুসলমানদেরকে যে দৃষ্টিভঙ্গির দিকেই নিতে চায়, সারা বিশ্ব ওদিকেই দৌড়ে যেতে শুরু করে। সমাজের শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গ কোন প্রকার লাভ লোকসান বিবেচনা ছাড়াই হলিউড-বলিউড নায়িকাদের মায়াবী চুলের বন্ধনে বন্দি হয়ে আছে। সত্যকে মিথ্যা আর মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে মানুষের সামনে পেশ করা হচ্ছে। দাজ্জালি শক্তির বিরুদ্ধের যুদ্ধকে একতরফাভাবে “সন্ত্রাসী যুদ্ধ” বলে মানুষের ব্রেইনে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

দাজ্জালি শক্তির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অনেক ভূখণ্ডেই আল্লাহর বান্দারা যুদ্ধ জারি রেখেছেন। বীরত্ব, বাহাদুরি, ধৈর্য এবং আত্মোৎসর্গের এমন এমন ইতিহাস রচনা করে যাচ্ছেন যে, উম্মতের জন্য তা গৌরবের বিষয় ছিল। কিন্তু এই মিডিয়া মানুষকে পুরো বিষয়টিকে ‘সন্ত্রাস’ বলে মোহাচ্ছন করে রেখেছে। একমাত্র আল্লাহ যাকে চান, সেই একমাত্র এর থেকে মুক্ত হতে পারছে। কুফর ও ইসলামের মধ্যকার এ যুদ্ধে মানুষেরা ঐ মতামতটিকেই বিশ্বাস করে নিচ্ছে, যা দাজ্জালি শক্তি এবং তার অনুসারীরা মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এমনকি জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিবর্গও মিডিয়ার এ বিষাক্ত ছোবল থেকে মুক্ত নয়। যেমনটি হযরত হুজায়ফা (রাঃ) বলেন,

“তোমাদের ব্যাপারে আমি সবচেয়ে বেশি যে জিনিসের ভয় করছি তা হচ্ছে যে, তোমাদের জানা থাকা সত্তেও তোমরা ঐ বস্তুকেই প্রাধান্য দিবে যা তোমরা প্রত্যক্ষ করবে এবং তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে এমতাবস্থায় যে তোমরা টেরও পাবে না”। (ইবনে আবী শাইবা, ৭/৫০৩)

বর্তমান সময়ের ঘটনাগুলোকে মিডিয়া যেভাবে পেশ করছে, তা যদি সামনে রাখা হয় – অতপর ইমাম মাহদি এর আবির্ভাবের সময় যখন উলামায়ে দ্বীন এবং মুজাহিদিন কর্তৃক উনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করার পরিস্থিতিকেও সামনে রাখেন, তবে আন্দাজ করা মুশকিল হয় না যে, মিডিয়া ইমাম মাহদিকে মানুষের সামনে কিভাবে পেশ করবে!! পাশাপাশি মিডিয়াভক্ত লোকেরা ঘটনাটিকে কিভাবে গ্রহণ করবে!!

আসুন আগে আমরা ইমাম মাহদি এর আগমনের বছরের লক্ষণ, আগমনের দিনের ঘটনা, তাঁর নিকট বাইয়াত গ্রহণের ঘটনা এবং তাঁর আগমন নিশ্চিত হবার পর তাঁর বিরুদ্ধে বাহিনী প্রেরণের ঘটনা সম্বলিত হাদিসগুলোর দিকে চোখ বুলিয়ে নেই।

ইমাম মাহদি এর আগমনের বছরের লক্ষণ সেই বছরের রমজান মাস থেকেই প্রকাশ পাবে। ফিরোজ দায়লামি বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“কোন এক রমজানে আওয়াজ আসবে”।
সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! রমজানের শুরুতে? নাকি মাঝামাঝি সময়ে? নাকি শেষ দিকে’? নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“না, বরং রমজানের মাঝামাঝি সময়ে। ঠিক মধ্য রমজানের রাতে। শুক্রবার রাতে আকাশ থেকে একটি শব্দ আসবে। সেই শব্দের প্রচণ্ডতায় সত্তর হাজার মানুষ সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলবে আর সত্তর হাজার বধির হয়ে যাবে”।
সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আপনার উম্মতের কারা সেদিন নিরাপদ থাকবে’? নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“যারা নিজ নিজ ঘরে অবস্থানরত থাকবে, সিজদায় লুটিয়ে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করবে এবং উচ্চ শব্দে আল্লাহু আকবর বলবে। পরে আরও একটি শব্দ আসবে। প্রথম শব্দটি হবে জিব্রাইল এর, দ্বিতীয়টি হবে শয়তানের।
ঘটনার পরম্পরা এরূপঃ শব্দ আসবে রমজানে। ঘোরতর যুদ্ধ সংঘটিত হবে শাওয়ালে। আরবের গোত্রগুলো বিদ্রোহ করবে জুলকা’দা মাসে। হাজী লুণ্ঠনের ঘটনা ঘটবে জিলজ্জ মাসে। আর মুহাররমের শুরুটা আমার উম্মতের জন্য বিপদ। শেষটা মুক্তি। সেদিন মুসলমান যে বাহনে চড়ে মুক্তি লাভ করবে, সেটি তার কাছে এক লাখ মূল্যের বিনোদন সামগ্রীতে পরিপূর্ণ ঘরের চেয়েও বেশি উত্তম বলে বিবেচিত হবে”। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩১০)

অপর এক বর্ণনায় আছে,
“... সত্তর হাজার মানুষ ভয়ে পথ হারিয়ে ফেলবে। সত্তর হাজার অন্ধ হয়ে যাবে। সত্তর হাজার বোবা হয়ে যাবে এবং সত্তর হাজার বালিকার যৌনপর্দা ফেটে যাবে”। (আসসুনানুল ওয়ারিদাতু ফিল ফিতান)

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“রমজানে আওয়াজ আসবে। জুলকা’দায় গোত্রগুলো বিদ্রোহ করবে আর জিলহজ্জ মাসে হাজীলুণ্ঠনের ঘটনা ঘটবে”। (মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩১০)

হযরত আমর ইবনে শু’আইব এর দাদা বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“জুলকা’দা মাসে বিভিন্ন গোত্রের মাঝে দ্বন্দ ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ঘটনা ঘটবে। ফলে হজ্জ পালনকারীরা লুণ্ঠিত হবে এবং মিনায় যুদ্ধ সংগঠিত হবে। সেখানে ব্যাপক প্রানহানির ঘটনা ঘটবে এবং রক্তের স্রোত বয়ে যাবে। অবশেষে তাদের নেতা (হযরত মাহদি) পালিয়ে রোকন ও মাকামে ইব্রাহিমের মধ্যখানে চলে আসবে। তাঁর অনীহা সত্ত্বেও মানুষ তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবে। তাঁকে বলা হবে, আপনি যদি আমাদের থেকে বাইয়াত নিতে অস্বীকার করেন, তাহলে আমরা আপনার ঘাড় উড়িয়ে দিব। বদর যুদ্ধের সংখ্যার সমসংখ্যক মানুষ তাঁর হাতে বায়’আত গ্রহণ করবে। সেদিন যারা তার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবে, আকাশ ও পৃথিবীর অধিবাসীরা তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবে”। (মুসতাদরাকে হাকেম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫৪৯)

তাবরানির অপর এক বর্ণনায় আছে,
“বাইয়াত গ্রহণকারী মুসলমানের সংখ্যা হবে বদরী মুজাহিদগণের সংখ্যার সমান। অর্থাৎ তিনশ তের জন”। (আল মু’জামুল আসওসাত, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৭৬)

মুসতাদরাকেরই আরেক বর্ণনায় আছে, হযরত আব্দদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেছেন,
‘লোকেরা যখন পালিয়ে হযরত মাহদির কাছে আগমন করবে, তখন মাহদি কাবাকে জড়িয়ে ধরে ক্রন্দনরত অবস্থায় থাকবেন। (হযরত আব্দদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন) আমি যেন তাঁর অশ্রু দেখতে পাচ্ছি। মানুষ হযরত মাহদিকে বলবে, আসুন, আমরা আপনার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করি। হযরত মাহদি বলবেন, আফসোস! তোমরা কত প্রতিশ্রুতিই না ভঙ্গ করেছ! কত রক্তই না ঝরিয়েছ! অবশেষে অনীহা সত্ত্বেও তিনি লোকদের থেকে বাইয়াত নেবেন। (হযরত আব্দদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেন) ওহে মানুষ! তোমরা যখন তাঁকে পাবে, তাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করবে। কারণ, তিনি দুনিয়াতেও ‘মাহদি’, আসমানেও ‘মাহদি’।

ইমাম যুহরি বলেছেন, হযরত মাহদির আত্মপ্রকাশের বছর দুজন ঘোষক ঘোষণা করবে। একজন আকাশ থেকে, একজন পৃথিবী থেকে। আকাশের ঘোষক ঘোষণা করবে, লোকসকল! তোমাদের নেতা অমুক ব্যক্তি। আর পৃথিবীর ঘোষক ঘোষণা করবে, ওই ঘোষণাকারী মিথ্যা বলেছে। এক পর্যায়ে পৃথিবীর ঘোষণাকারী যুদ্ধ করবে। এমনকি গাছের ডাল-পাতা রক্তে লাল হয়ে যাবে। সেদিনকার বাহিনীটি সেই বাহিনী, যাকে ‘জাইশুল বারাজি’ তথা ‘জিনওয়ালা বাহিনী’ বলা হয়েছে। সেদিন যারা আকাশের ঘোষণায় সাড়া দিবে, তাদের মধ্য থেকে বদরি মুজাহিদগণের সংখ্যার সমসংখ্যক লোক তথা তিনশো তেরজন মুসলমান প্রানে রক্ষা পাবে। অপর বর্ণনায় এসেছে, মারাত্মক যুদ্ধ হবে – শেষ পর্যন্ত হকপন্থিদের মধ্যে শুধু বদর যুদ্ধের সেনাসংখ্যা (৩১৩) পরিমাণ লোক অবশিষ্ট থাকবে এবং তারা সেখান থেকে ফিরে এসে ইমাম মাহদির কাছে এসে বাইয়াত হয়ে যাবে।

হযরত ছওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“তোমাদের ধনভাণ্ডারের নিকট তিনজন খলীফা সন্তান যুদ্ধ করতে থাকবে। কিন্তু ধনভাণ্ডার তাদের একজনেরও হস্তগত হবে না। তারপর পূর্ব দিক থেকে কতগুলো কালো পতাকা আত্মপ্রকাশ করবে। তারা তোমাদের সাথে এমন ঘোরতর লড়াই লড়বে, যেমনটি কোন সম্প্রদায় তাদের সঙ্গে লড়েনি”।
বর্ণনাকারী বলেন, তারপর নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও একটি বিষয় উল্লেখ করে বললেন,
“তারপর আল্লাহর খলীফা মাহদির আবির্ভাব ঘটবে। তোমরা যখনই তাঁকে দেখবে, তাঁর হাতে বাইয়াত নেবে। যদি এজন্য তোমাদেরকে বরফের উপর দিয়ে হামাগুড়ি খেয়ে যেতে হয়, তবুও যাবে। সে হবে আল্লাহর খলীফা মাহদি”। (সুনানে ইবনে মাজা; খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৩৬৭; মুসতাদরাকে হাকেম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫১০)

এখানে ‘খলীফা সন্তান’ অর্থ সবাই বাদশা বা শাসকের সন্তান হবে। পিতার রাজত্বের দোহাই দিয়ে সবাই ক্ষমতার দাবী করবে। আর ‘ধন ভাণ্ডার’ দ্বারা কাবা ঘরের নিচের প্রোথিত ধন সম্পদ হতে পারে। আবার নিছক রাজত্বও হতে পারে। কারও মতে, ফোরাত নদীর স্বর্ণ পর্বতকে বোঝানো হয়েছে। কিন্তু রাজত্ব হবার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ,

উম্মুল মুমিনিন হযরত উম্মে সালামা (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি,
“জনৈক খলীফার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে করে বিরোধ সৃষ্টি হবে। তখন মদিনার একজন লোক পালিয়ে মক্কা চলে আসবে (এই আশঙ্কায় যে, পাছে মানুষ আমাকে খলীফার পদে অধিষ্ঠিত করে কিনা)। মক্কার লোকেরা তাঁকে খুঁজে বের করে অনিচ্ছা সত্ত্বেও রুকুন এবং মাকামে ইব্রাহিমের মাঝামাঝি স্থানে বাইয়াত গ্রহণ করবে।
বাইয়াতের খবর শুনে সিরিয়ার দিক থেকে এক বিশাল বাহিনী প্রেরিত হবে। মক্কা মদিনার মাঝামাঝি বায়দা নামক স্থানে এসে পৌঁছানোর পর এই বাহিনীটিকে ভূগর্ভে ধসিয়ে দেওয়া হবে। বাহিনী ধ্বসের সংবাদ শুনে সিরিয়ার ‘আবদাল’ (শ্রেষ্ঠ মুসলমানগণ) ও ইরাকের ‘আসাইব’ (সম্মানিত মুসলিম ব্যক্তিবর্গ) মক্কায় এসে তাঁর (ইমাম মাহদির) নিকট বাইয়াত হবে। অতঃপর সিরিয়ার বনু কালব গোত্রের এক কুরায়শীর আবির্ভাব হবে। সিরিয়ার দিক থেকে সে বাহিনী প্রেরণ করবে। কিন্তু আল্লাহ তাদেরকে পরাস্ত করবেন, যার ফলে তাদের উপর বিপদ নেমে আসবে। এটিই হল ‘কালবের যুদ্ধ’। যে ব্যক্তি কালবের যুদ্ধলব্ধ সম্পদ থেকে বঞ্চিত হবে, সে ব্যর্থ বলে বিবেচিত হবে। তাঁরপর তিনি ধনভাণ্ডার খুলে দেবেন, মাল দৌলত বণ্টন করবেন এবং ইসলামকে বিশ্বময় খেলাফতের আদলে সুপ্রতিষ্ঠিত করবেন। এই অবস্থা অব্যাহত থাকবে সাত বছর কিংবা (বলেছেন) নয় বছর”।
(আল মু’জামুল আওসাত, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৫; মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদিস ৬৯৪০; ইবনে হিব্বান, হাদিস ৬৭৫৭; আল মু’জামুল কাবীর, হাদিস ৯৩১)

আবু দাউদের অপর এক বর্ণনায় আরও আছে, “তারপর তিনি মৃত্যুবরণ করবেন এবং মানুষ তাঁর জানাজা আদায় করবে”।

ইসলামকে বিশ্বময় খেলাফতের আদলে (কালেমার একক পতাকার ছায়াতলে জাতীয়তাবাদহীন একক ভূখণ্ড) সুপ্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে তিনি পেছন দিককার শত্রুর সাথে যুদ্ধ, রোমানদের সাথে মহাযুদ্ধ, আন্তাকিয়ার যুদ্ধ, আমকের যুদ্ধ, ফোরাতের তীরে যুদ্ধ, হিন্দুস্তানের (ভারতীয় উপমহাদেশ) যুদ্ধ, কুস্তুন্তুনিয়ার ( তুরস্কের ইস্তাম্বুল) রক্তপাতহীন যুদ্ধসহ অনেক ছোটবড় যুদ্ধ তাঁর খেলাফতকালে অনুষ্ঠিত হবে। পরবর্তী কোন লেখায় এগুলোর উপর বিষদ আলোচনা করা হবে।

উম্মুল মুমিনিন হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
“কাবা ঘরে আশ্রিত ব্যক্তির (ইমাম মাহদি) বিরুদ্ধে বিশাল বাহিনীর আগমন হবে। বায়দার প্রান্তরে পৌছা মাত্র বাহিনীর মধ্যভাগ ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। সম্মুখভাগ পেছন ভাগের সেনাদেরকে ডাকাডাকি করতে থাকবে। পরক্ষনেই সম্পূর্ণ বাহিনীকে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। ফলে সংবাদ বাহক একজন ছাড়া আর কেউ নিস্তার পাবে না”। (মুসলিম শরীফ)

উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কেমন যেন করছিলেন। জাগ্রত হওয়ার পর জিজ্ঞেস করলাম, এমন কেন করছিলেন হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বললেন,
“খুবই আশ্চর্যের বিষয় – আমার উম্মতের কিছু লোক কাবা ঘরে আশ্রিত কুরায়শী ব্যক্তিকে (ইমাম মাহদি) হত্যার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। বায়দা প্রান্তরে পৌঁছা মাত্র সবাইকে মাটির নিচে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে”।
আমরা বললাম, ‘পথে তো অনেক মানুষের সমাগম থাকে!!’ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,
“হ্যাঁ, দর্শক, অপারগ এবং পথিক সকলকেই একত্রে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে। তবে অন্তরইচ্ছা অনুযায়ী আল্লাহপাক তাদের পুনরুত্থান করবেন”। (মুসলিম শরীফ)

উপরের হাদিসগুলো থেকে প্রতিয়মান হয় যে, যে বছর ইমাম মাহদির আগমন ঘটবে, সে বছরের রমজান থেকেই আলামত প্রকাশ পেতে থাকবে। এবং সেই বছরের মধ্য রমজান হবে শুক্রবার।

২০২৫ সাল পর্যন্ত আগামী বছরগুলোতে মধ্য রমজান শুক্রবার হবার সম্ভাবনা যে সালগুলোতে সেগুলো হল, ২০১৪ সালের ১১ ও ১২ ই জুলাই (১৪৩৫ হিজরির ১৪ ও ১৫ ই রমজান শুক্রবার ও শনিবার), ২০১৫ সালের ২ ও ৩ জুলাই (১৪৩৬ হিজরির ১৫ ও ১৬ ই রমজান বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার), ২০১৭ সালের ৯ ও ১০ ই জুন (১৪৩৮ হিজরির ১৪ ও ১৫ ই রমজান শুক্রবার ও শনিবার), ২০২০ সালের ৮ই মে (১৪৪১ হিজরির ১৫ ই রমজান শুক্রবার), ২০২২ সালের ১৫ ও ১৬ ই এপ্রিল (১৪৪৩ হিজরির ১৪ ও ১৫ ই রমজান শুক্রবার ও শনিবার), ২০২৩ সালের ৬ ও ৭ ই এপ্রিল (১৪৪৪ হিজরির ১৫ ও ১৬ ই রমজান বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার) এবং ২০২৫ সালের ১৪ ও ১৫ ই মার্চ (১৪৪৬ হিজরির ১৪ ও ১৫ ই রমজান শুক্রবার ও শনিবার)।

চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে এবং ২৯ বা ৩০ দিনে রমজান মাস হবার উপর ভিত্তি করে মধ্য রমজান শুক্রবার হিসাবে সাব্যস্ত হবে।

‘প্রথম শব্দটি হবে জিব্রাইল এর, দ্বিতীয়টি হবে শয়তানের’ দ্বারা প্রতিয়মান হয় যে, প্রথম শব্দটি আকাশ থেকে আসবে আল্লাহর নির্দেশে। কিন্তু যেহেতু এই শব্দের প্রভাব দুনিয়ার সতর্ক মুমিনদের চোখ খুলে দিবে এবং তাই কাফিররা প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্বিতীয় এমন বিকট কোন শব্দ ঘটাবে, যাকে ‘শয়তানের শব্দ’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এবং এই শব্দকে একটি প্রযুক্তিগত দুর্ঘটনা বলে দাজ্জালি মিডিয়াতে এমনভাবে রং লাগিয়ে প্রকাশ করা হবে, যাতে দুনিয়ার সবাই স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয় এবং অপেক্ষাকৃত উদাসীন, শেষ জামানার আলামত সম্পর্কে অজ্ঞ ও দুর্বল ঈমানের মুসলমানরা সহজেই পথ ভ্রষ্ট হয়।

‘জনৈক খলীফার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে করে বিরোধ সৃষ্টি’, ‘তিনজন খলীফা সন্তান যুদ্ধ করতে থাকবে’ এবং এসময় ইমাম মাহদির ‘মদিনা থেকে মক্কায় চলে আসা’ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যে, মৃত্যুবরণকারী খলীফা কোন এক সৌদি শাসক হবেন, যার মৃত্যুর পর তাঁর স্থালাভিসিক্তি নিয়ে মতবিরোধ ঘটবে। বর্তমানে সৌদি রাজ পরিবারের কাছে রাজত্বের পাশাপাশি মক্কা - মদিনার দায়িত্বপ্রাপ্তি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, সৌদি বাদশারা তাদের নামের সাথে তাদের মক্কা – মদিনার সংশ্লিষ্টতাও লিখে থাকেন। যেমন বর্তমান বাদশা তাঁর নাম সরকারীভাবে এভাবে লিখেনঃ King Abdullah Bin Abdul Aziz al Saud, Kingdom of Saudi Arabia & custodian of two holy mosques.

বর্তমান বাদশার বয়স ৮৯ বছর। সৌদি রাজ পরিবারের ব্যাপারে সেখানকার সাধারণ জনগণের অসন্তোষ, তাঁর ভবিষ্যৎ মৃত্যু এবং মধ্য প্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা ষড়যন্ত্রও পিছিয়ে নাই। গত ২৮ শে সেপ্টেম্বর ২০১৩ সালে ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট ছাপে যার শিরোনাম ‘How 5 countries in middle east could become 14’। সেখানে তারা বেছে নিয়েছে সিরিয়া, ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন ও সৌদি আরব। (এর ভিতরে ৩ টি ভূখণ্ডের সংশ্লিষ্টতা আছে ইমাম মাহদির আগমনের দিন, আমরা হাদিস থেকে জেনেছি, সিরিয়ার ‘আবদাল’ বা শ্রেষ্ঠ মুসলমানগণ ও ইরাকের ‘আসাইব’ বা সম্মানিত মুসলিম ব্যক্তিবর্গ মক্কায় এসে ইমাম মাহদির নিকট বাইয়াত হবে)। আর সৌদি আরবকে ভাঙ্গার সম্ভাব্য কারণ দেখিয়েছেঃ
‘Saudi Arabia faces its own (suppressed) internal divisions that could surface as power shifts to the next generation of princes. The kingdom’s unity is further threatened by tribal differences, the Sunni-Shiite divide and economic challenges’.

হাদিসেও এসেছে ‘গোত্রগুলো বিদ্রোহ করবে জুলকা’দা মাসে’। আর সব মিলিয়ে যদি সত্যিই পশ্চিমারা অদূর ভবিষ্যতে এর সুযোগ নিতে চায়, স্বভাবতই সবচেয়ে বড় যেই বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে তা হলঃ “মক্কা - মদিনার দায়িত্বপ্রাপ্তি” বা custodian of two holy mosques.

হাদিসে উল্লেখ আছে, ‘বাইয়াতের খবর শুনে সিরিয়ার দিক থেকে এক বিশাল বাহিনী প্রেরিত হবে’। এর অর্থ হল ইসলামের শত্রুরা হযরত মাহদির অপেক্ষায় থাকবে এবং গোয়েন্দা মারফত হারাম শরীফের খবর নিতে থাকবে। হারাম শরীফের সিরিয়ার দিক থেকে বর্তমান সিরিয়া ব্যতীত যে ভূখণ্ডটি আছে তা হল জর্ডান (রাসুল সা. এর সময়ে এটি তৎকালীন শাম অর্থাৎ বৃহত্তর সিরিয়ার অংশ ছিল)। যেহেতু সিরিয়া থেকে বনু কালব গোত্রের এক কুরায়শী দ্বিতীয় বাহিনী প্রেরণ করবে, তাতে আন্দাজ করা যায়, এই বাহিনীটি আসবে জর্ডান থেকে। এবং তা কিভাবে হবে, এটি বুঝতে হলে বর্তমান জর্ডানের সামরিক কার্যকলাপের দিকে নজর দিতে হবে। সিরিয়াতে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে উপলক্ষ্য করে একে আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকি স্বরূপ দেখিয়ে জর্ডান সরকার ২০১৩ এর প্রথমার্ধে ৯০০ মার্কিন সৈন্যকে থাকার অনুমতি দেয়। এবং মার্কিন সামরিক সচিব টাইমস পত্রিকাকে এপ্রিলে জানায়, এটি যে কোন সময় বাড়িয়ে ২০,০০০ পর্যন্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই যদি হয়, বর্তমান অবস্থা, তাহলে যখন সৌদি আরবে গোত্রগুলোর বিদ্রোহের কারণে সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তখন এই জর্ডানের সরকারী বাহিনী তাদের মিত্র কাফের বাহিনীকে নিয়ে নিজ গদি ঠেকাতে কি পদক্ষেপ নিতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

হাদিসে আরও বলা হয়েছে, পুরো বাহিনীটিকে ভূগর্ভে ধ্বসিয়ে দেওয়া হবে এবং “সংবাদ বাহক একজন ছাড়া আর কেউ নিস্তার পাবে না”। এরূপ এক আজাবের সাক্ষীকে স্বভাবতই গায়েব/হত্যা করা হবে এবং কখনোই তা প্রকাশ করতে দেওয়া হবে না।

হাদিসে আরও উল্লেখ আছে, “অতঃপর সিরিয়ার বনু কালব গোত্রের এক কুরায়শীর আবির্ভাব হবে। সিরিয়ার দিক থেকে সে বাহিনী প্রেরণ করবে”। এর অর্থ হল, সে সময় বনু কালবও সিরিয়া শাসন করবে ও তারা ইসলামের বিরোধিতায় লিপ্ত থাকবে।

কোন কোন হাদিসে এই শাসককে ‘সুফিয়ানি’ হিসাবে অবিহিত করা হয়েছে। এর কারণ, হিসাবে হযরত আলী (রাঃ) বলেন,
“সুফিয়ানি – যে লোক শেষ যুগে সিরিয়াতে দখল প্রতিষ্ঠা করবে সে বংশগতভাবে খালিদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ানের বংসদ্ভুত হবে। তার সহচরদের মধ্যেও "কালব্যিয়া" বা "কাল্ব” গোত্রের লোক বেশি হবে। মানুষের রক্ত ঝরানো তাদের বিশেষ অভ্যাসে পরিণত হবে। যে লোকই বিরোধিতা করবে, তাকেই হত্যা করা হবে। এমনকি গর্ভস্থিত সন্তানদের পর্যন্ত হত্যা করবে। যখন হারাম শরীফে ইমাম মেহেদী (আঃ) এর আগমনের খবর প্রকাশ পাবে তখন এই শাসক ইমাম মেহেদী (আঃ) এর বিরুদ্ধে একটি বাহিনী প্রেরণ করবে”। (মাজাহিরে হক জাদিদ, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪৩)

“শুরুর দিকে তারা ন্যায়পরায়ণ শাসক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে, পরে যখন শক্তি ও ক্ষমতা পাকাপোক্ত হয়ে যাবে, তারা অত্যাচার-অবিচার ও অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়বে”। (ফয়জুল কদির, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১২৮)
অর্থাৎ প্রথমে তাদেরকে মুসলমানদের মাঝে মহান নেতা বা হিরো হিসাবে উপস্থাপন করা হবে, কিন্তু পরে তাদের আসল রূপ প্রকাশ হয়ে পড়বে এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে।

“প্রথম বাহিনী বায়দায় ধ্বসে যাওয়ার পর ইমাম মেহেদী মুজাহিদদের নিয়ে সিরিয়ার দিকে এগিয়ে যাবেন, সেখানে অন্য এক বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করবেন এবং তাদেরকে পরাজিত করবেন। এই যুদ্ধটি “কাল্ব যুদ্ধ” নামে হাদিসে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এই বাহিনীর নেতার উপাধি ‘সুফিয়ানি’ (বনু কালব গোত্রের এক কুরায়শী)। হযরত মেহেদী (আঃ) তারবিয়া হ্রদের কাছে এই শাসককে হত্যা করবেন”। (আসসুনানুল ওয়ারিদাতু ফিল ফিতান)

মুসলিম বিশ্বের জন্য উদ্বিগ্নের বিষয় হল, ১৯৬৬ সালে সামরিক ক্যু এর মাধ্যমে সিরিয়ার ক্ষমতা দখলকারী আল আসাদ পরিবারও "কালব্যিয়া" বা "কাল্ব" গোত্রের। তারা শিয়াদের যে শাখার অনুসারী অর্থাৎ “নুসাইরিয়া”/ “আলাভি”/ “আলাওয়াতি” রাও “কালব্যিয়া" বা "কাল্ব" গোত্রের। এই আসাদদের অনুগত ও অনুসারী প্রশাসনিক ও সামরিক বাহিনীর বেশির ভাগই “নুসাইরিয়া”/ “আলাভি” তথা "কালব্যিয়া" বা “কাল্ব" গোত্রের। ইসরাইল ও আমেরিকার বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠের কারণে বেশির ভাগ মুসলিমরা এই পরিবারকে হিরো মনে করে। আজ ক্ষমতায় টিকে থাকতে গিয়ে তাদের আসল রূপ প্রকাশ পেয়েছে। আজ তারা “আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআ”দের সাথে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত। প্রথম শাসক ছিল হাফিজ আল আসাদ, তার মৃত্যুর পর দ্বিতীয় শাসক বাশার আল আসাদ। কিন্তু আরবদের বিভিন্ন পশ্চিমা দালাল মিডিয়াতে নিজের "কালব্যিয়া" বা "কাল্ব" গোত্রের পরিচয়কে গোপন করে কুরাইশ বংশের পরিচয়কে বাশার আল আসাদ বার বার সামনে আনছে (হাদিসে এসেছে কালব গোত্রের কুরায়েশী ব্যক্তি) এবং রাসুল (সাঃ) এর কুরাইশ বংশের ধোঁয়া তুলে বর্তমান মুসলিম জাহানের অপেক্ষাকৃত উদাসীন, শেষ জামানার আলামত সম্পর্কে অজ্ঞ ও দুর্বল ঈমানের মুসলমানদের সহজেই পথ ভ্রষ্ট করছে।

এমনকি সিরিয়ার এই বনু কালব গোত্রীয় শাসক বাশার আল আসাদ গত ২১ শে আগস্ট ২০১৩ সালে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে দামেস্কের আলগুতা শহরে। এই ‘আলগুতা’ হাদিসের বর্ণনা হিসাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। কারণ, সিরিয়ার দামেস্কের “আল গুতা" নামক স্থানটি রাসূল (সাঃ) এর বর্ণিত "মালহামা" (মহাযুদ্ধে) একটি বড় ভূমিকা রাখবে, যেই যুদ্ধের নেতৃত্ব দিবেন ইমাম মেহেদী।

হযরত আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
“মহাযুদ্ধের সময় মুসলমানদের তাঁবু (ফিল্ড হেডকোয়ার্টার) হবে সিরিয়ার সর্বোন্নত নগরী দামেস্কের সন্নিকটস্থ আলগুতা নামক স্থানে”।
(সুনানে আবি দাউদ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১১১; মুসতাদরাকে হাকেম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৫৩২; আল মুগনী, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ১৬৯)

আলগুতা সিরিয়ায় রাজধানী দামেস্ক থেকে পূর্ব দিকে প্রায় সাড়ে আট কিলোমিটার দূরে অবস্থিত একটি অঞ্চল। মহাযুদ্ধের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দামেস্কের সন্নিকটস্থ আলগুতা নামক স্থানে ইমাম মাহদী এর হাতে থাকবে।

সমস্ত দাজ্জালি মিডিয়া এই রাসায়নিক অস্ত্রের বিষয়টিকে এমনই বিতর্কিত করে তুলেছে যে, আল্গুতা তো দূরের কথা, রাসায়নিক অস্ত্র আদৌ বাশার আল আসাদ এর বাহিনী মেরেছে কিনা সেটাই এখন ধোঁয়াশা হয়ে গেছে। আর এই বাহিনীর বিরুদ্ধে জিহাদকে তো ইতিমধ্যেই পশ্চিমা দাজ্জালি মিডিয়া এবং বিভিন্ন ভূখণ্ডের দালাল মিডিয়া একে “যৌন জিহাদ” বলে অপপ্রচার করে অপেক্ষাকৃত উদাসীন, শেষ জামানার আলামত সম্পর্কে অজ্ঞ ও দুর্বল ঈমানের মুসলমানদের পথ ভ্রষ্ট করার চেষ্টা চালিয়েছে।

হাদিসে মিনায় ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটবে বলা হয়েছে। এত বড় একটি ঘটনা হঠাৎ ঘটে যাবে না। বরং ইসলামের শত্রু কাফেররা (ইহুদী খৃষ্টান ও মূর্তিপূজারীরা) আগে থেকেই এর প্রস্তুতি নিয়ে রাখবে এবং তাদের অনুগত দাজ্জালি মিডিয়ার দ্বারা ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ অপপ্রচারটিই চালাবে। মিডিয়ার স্ক্রলে ব্রেকিং নিউজ হবে হয়তোঃ “হজ্জ চলাকালীন মুসলমানদের উপর মক্কা শরীফে সন্ত্রাসী হামলা”। তাদের অপপ্রচারের নমুনাটি নিম্নরূপ হতে পারেঃ

খবর পাঠকঃ আমরা এই মাত্র খবর পেলাম হজ্জ চলাকালীন মুসলমানদের উপর মক্কা শরীফে সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। বিস্তারিত জানতে আমরা সেখানে আমাদের সিনিয়র সাংবাদিক আবদুল্লাহ ইবনে সাবাহ [অথবা একটি আরব মুসলিম নাম] এর সাথে সরাসরি কথা বলব।
হ্যালো, আবদুল্লাহ শুনতে পাচ্ছেন।

আবদুল্লাহঃ হ্যাঁ, শুনতে পাচ্ছি।

খবর পাঠকঃ মিনাতে ঠিক কি হচ্ছে এবং কারা এই হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে?

আবদুল্লাহঃ মক্কার মিনা প্রান্তরে হাঙ্গামা ছড়িয়ে পড়েছে......। ওখানে ভয়ানক হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হওয়ার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে...। হাঙ্গামার কারণ এখনও অজানা...। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে, এর পিছনে ঐ সকল সন্ত্রাসীরাই জড়িত, যারা ইতিপূর্বে নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরিয়ে আসছে ... এবং ধর্মীয় স্থানগুলোতে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আসছে। মিনা প্রান্তরে অসংখ্য হাজীদেরকে হত্যা করা হয়েছে। লাশগুলো রক্তের বন্যায় ভাসছে। আমি যে সকল জীবিতদের সাথে কথা বলেছি, তাদেরকে অনেকেরই হজ্জের সামানা লুণ্ঠিত হয়েছে।

খবর পাঠকঃ আব্দুল্লাহ, কাবা শরীফের এই মুহুর্তে ঠিক কি অবস্থা?

আবদুল্লাহঃ উপস্থিত সন্ত্রাসীরা আল্লাহর পবিত্র ঘর কা’বা শরীফ দখল করে নিয়েছে এবং কা’বা শরীফের আশেপাশের হাজীদেরকে বন্দি করে ফেলেছে। সন্ত্রাসীরা এই হাজীদেরকে নিজেদের জীবন বাঁচানোর জন্য ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে। বন্দিদের মধ্যে ছোট ছোট শিশু এবং অজস্র নারী বিদ্যমান। চারপাশ থেকে চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ ভেসে আসছে। সাহায্যের জন্য শিশুরা চিল্লাচিল্লি করে আহ্বান করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই সকল সন্ত্রাসীদের মধ্যে মার্কিনবিরোধী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীও বিদ্যমান ...... যাদেরকে খুঁজে বের করার জন্য আগে থেকেই অপারেশন জারি ছিল...... সন্ত্রাসীদের ধর্ম বলে কিছু নেই। ধারণা করা হচ্ছে, এই সন্ত্রাসীদের সংখ্যা ৩০০ থেকে ৩৫০ এর মতো হবে। (ইমাম মাহদির আগমন ও ৩১৩ জনের বাইয়াত গ্রহণের ঘটনা আড়াল ও সন্ত্রাসী বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া)

সংবাদ পাঠকঃ আবদুল্লাহ আপনাকে ধন্যবাদ। আমরা আবার আপনার সাথে পরে যোগাযোগ করব। এইমাত্র আমাদের হাতে খবর এসে পৌঁছেছে যে, মক্কা শরীফকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য জর্ডান ও মার্কিন সেনাদের নিয়ে গঠিত শান্তিরক্ষা বাহিনী যাত্রা শুরু করেছে। (তবে জোটবদ্ধ এই বাহিনীর পরিণামে কি হয়েছে, তা গোপন করা হবে)।

ইমাম মাহদির দলকে ধ্বংস করতে যাওয়া বাহিনীর বায়দা প্রান্তরে মাটির নিচে ধ্বসে যাওয়ার যে কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, সে পরিস্থিতি নিয়ে মিডিয়ার মিথ্যা, বানোয়াট, ধোঁকা এবং জাদুময়ী অপপ্রচারের আন্দাজ আপনি করতে পারেন।

সারা বিশ্বের জনসাধারণকে মিনার প্রান্তরের বিভিন্ন লাশের ছবি বার বার বিভিন্ন চ্যানেলে টিভি স্ক্রিনে দেখানো হবে আর ইমাম মাহদিকে পুরো ঘটনার জন্য দায়ী করে ‘স্মরণকালের শ্রেষ্ঠ সন্ত্রাসী’ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার সর্বাত্মক চেষ্টা চলতে থাকবে। আর সাথে থাকবে সুন্নতি লেবাসধারী সরকারী/দরবারি আলেমদের কুরআন হাদিসের আলোকে পুরো ঘটনার অপব্যাখ্যাওয়ালা টক শো।

আমরা ইতিমধ্যেই প্রত্যক্ষ করেছি, বিভিন্ন ভূখণ্ডে কিভাবে কোন ধর্মীয় গোষ্ঠীকে ‘সন্ত্রাসী’ বলে আখ্যা দিয়ে তাদেরকে নির্বিচারে হত্যা করে দাজ্জালি মিডিয়ার মাধ্যমে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে সাধারণ মানুষের ব্রেইন ওয়াশ করা হয়েছে। আর এটি তো আরও অনেক বড় ব্যাপার। মিডিয়ার চালে চলমান এমন অপেক্ষাকৃত উদাসীন, শেষ জামানার আলামত সম্পর্কে অজ্ঞ ও দুর্বল ঈমানের মুসলমান নামধারীরা সেদিন ইমাম মাহাদির কথা মানা তো দূরের কথা, এদের মুখ থেকে কি ধরনের সব প্রতিক্রিয়া বের হতে থাকবে ...... এর আন্দাজ করা কঠিন নয়।

পক্ষান্তরে ঐ সকল ব্যক্তি যারা বিবিসি/সিএনএন এর মতো পশ্চিমা দাজ্জালি মিডিয়া ও তাদের বিভিন্ন ভাষাভাষী দালাল মিডিয়া দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়, সত্যকে গ্রহণ করতে বিন্দুমাত্র কাউকে ভয় করে না, কারও সাথে আপোষ করে না, যাদের অন্তর সদা হক্ক গ্রহণে উন্মুখ – তারা যদি পাহাড়ের গর্তেও অবস্থান করে, ইমাম মাহদির আবির্ভাবের জ্ঞান তাদের ঠিকই হয়ে যাবে।

যেহেতু “রিসালাত আল খুরুজ আল মাহাদি” কিতাবের ১০৮ পৃষ্ঠায় এসেছে,
“১৪০০ হিজরির পরে মানুষ ইমাম মাহদিকে ঘিরে একত্রিত হবে” (এটি হাদিস নয়, কিতাবটিও কোন সনামধন্য কিতাব নয়, সতর্কতার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে)

আর “আসমাল মাসালিক লিয়্যাম মাহাদিয়্যা মালিকি লি কুল্লু-ইদ দুনিয়া বি ইম্রিল্লাহিল মালিক” কিতাবে কালদা বিন জায়েদ ২১৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন, হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেছেনঃ
“১৪০০ হিজরির সাথে আরও বিশ বা ত্রিশ বছর যোগ কর। এরপরে কোন এক সময়ে মাহদির আবির্ভাব হবে...”। (এটি হাদিস নয়, কিতাবটিও কোন সনামধন্য কিতাব নয়, সতর্কতার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে)

তাই বর্তমান ১৪৩৫ হিজরিতে এসে সামনের দিনগুলো অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তার উপর উপর সিরিয়াতে বনু কালব গোত্রের দ্বিতীয় শাসক (দ্বিতীয় সুফিয়ানি) এবং তার বর্তমান কার্যক্রম।

হযরত আরতাত (রাঃ) বলেন,
“দ্বিতীয় সুফিয়ানির জামানায় বিকট এক আওয়াজ আসবে। আওয়াজটি এতই বিকট হবে যে, প্রত্যেক গোত্রই মনে করবে – তাদের নিকটবর্তী লোকেরা ধ্বংস হয়ে গেছে”। (আল ফিতান, ৮৫০)

তাই, কোন উপসংহারে না পৌঁছালেও বিশ্বাসী বান্দা হিসাবে আমাদের সতর্ক দৃষ্টি থাকবে হাদিসে বর্ণিত মুসলিম ভূখণ্ডগুলোর প্রতিটি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সর্বোপরি সামরিক পরিস্থিতির উপর।

ইনশাল্লাহ, আগামী লিখাতে “ইমাম মাহদির সাথে বাইয়াত ও যুদ্ধ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ভূখণ্ড সম্পর্কে হাদিস ও সেগুলোতে দাজ্জালি এডভান্স ফোর্সের বর্তমান কার্যক্রম” এর উপর আলোকপাত করা হবে।
 
 


বুধবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৩

ইসরাইল রাষ্ট্রের চূড়ান্ত পরিনতী -



M.s. Arman Isca's status.
Israeli n ehudi......
ইসরাইল রাষ্ট্রের চূড়ান্ত পরিনতী -
একটা প্রশ্ন সবার মাথায়ই ঘুর পাক
খায় আর তা হল –
দাজ্জাল এর আত্বপ্রকাশের
পূর্বে আরবে অবস্থিত জোট সেনা (আমেরিকা ও
ব্রিটেন,ফ্রান্স সহ অন্যান্ন Nato ভূক্ত
দেশগুলি) কি সম্পূর্ন রূপে পতন হয়ে যাবে ?
যদি সম্পূর্ন রূপে পতন হয়ে তবে ইসরাইল
থাকবে নাকি শেষ হয়ে যাবে l
প্রথম প্রশ্নের উত্তরে বলতে গেলে – এ
বিষয়ে কিয়ামতের আলামত সংক্রান্ত হাদিস
গুলো অধ্যায়ন করলে পারে বুঝা যায়
যে,এতদাঞ্চলে অবস্থিত সকল দুশমন
সম্পূর্নরূপে পরাজয় বরন করবে l
কেননা সহী হাদিসের
মাধ্যমে একথা প্রমানিত যে,ইমাম
মাহদীর যুগে সম্পূর্ন শান্তি,নিরাপদ ও
স্বচ্ছলতার জীবন ফিরে আসবে l আর
এটি তখনই সম্ভব যখন,ইসলামের
দুশমনেরা এতদাঞ্চল
থেকে সম্পূরনরূপে পলায়ন করে চলে যাবে l
পাশা-পাশি রূম ও কনস্টান্টিপোল বিজয়ের
কথা নবীজির হাদিস দ্বারা প্রমানীত
l এবং আরব অঙ্চলে বিদ্যমান শত্রু পক্ষ
পরাজয় বরন করবে (যারা ১৯৯১
সালে উপসাগরীয় যুদ্ধের বাহানায় আরব
সাগরের নানা স্থানে সমগ্র আবর
বিশ্বেকে বৃত্তাকারে পরিবেষ্টন করে নৌ/স্থল ও
বিমান ঘাটি গেড়েছে ) l আর বাকি রইল
ইসরাইল প্রসঙ্গ l স্পষ্টতই বুঝা যায়
যে,জোটবদ্ধ কাফেরদের যখন সম্পূর্ন পতন
হয়ে যাবে তখন ইসরাইলের শক্তিও নিঃশেষ
হয়ে যাবে l
দাজ্জালের ব্যাপারে হাদিসে বর্নিত
হয়েছে যে, ‘সে কোন একটি বিষয়ে রাগান্বিত
হয়ে আত্বপ্রকাশ করবে’ l হতে পারে যখন
কূফরী শক্তি সম্যক পরাজ্বয়ের সম্মুক্ষীন
হবে তখন দাজ্জাল গোস্বা আবস্থায়
আত্বপ্রকাশ করে ফেলবে l ফলে পরাজিত
কুফরী শক্তি পূনরায় তার সাথে একত্রিত
হবে l
এখানে আমি ইহুদিদের কিতাব (তাওরাত)
থেকে কতিপয় উদৃতি পেশ করছি,যেখানে পরিষ্কার
ভাবে বলা আছে যে,ইহুদিদের অপকর্মের
কারনে আল্লাহ
তায়ালা ইসরাইল’কে সম্পূর্ন ধ্বংস
করে দিবেন –
যদিয় ইহুদি সম্প্রদায় এসকল
আয়াতে অপব্যাখ্যার আশ্রয় নেয় l
ইসরায়েল অঙ্চলে প্রত্যাবর্তন ও
তা পূর্নতা দেওয়ার জন্য
ইহুদিরা যে দিনটির প্রহর গুনছে, সে দিনের
ব্যাপারে স্বয়ং তাদের কিতাবে বড়
আশ্চর্য ধরনের নকশা টানা হয়েছে l কিন্তু
ইহুদিরা তাদের চিরাচরিত স্বভাব ও
ধোকাবাযীর আশ্রয় নিয়ে এগুলোকে ভূল
অর্থে ব্যাখ্যা করে লোকদেরকে ধোকায় ফেলার
চেষ্টা করে l তাদের কিতাবের ‘ইযাখীল’
অধ্যায়ে বর্নিত হয়েছে –
“ অতপর আল্লাহ তায়ালা বলেন
যে,কেননা তোমরা (ইহুদি সম্প্রদায়) আমার
কাছে অত্যন্ত বখাটে ও লম্পট সাব্যস্ত
হয়েছো l
সূতরাং তোমাদেরকে আমি জেরুজালেমে একত্রিত
করবো l যেমনাকি মানুষেরা স্বর্ন,রৌপ,লোহা
আর টিনকে আগুনে নিক্ষেপ করার জন্য একত্রিত
করে,তেমনি আমিও গোস্বা ও রাগান্বিত
হয়ে তোমাদেরকে সেখানে একত্রিত করবো l অতপর
তোমাদেরকে আমি গলিয়ে দেব l আমি তোমাদের উপর
স্বীয় রোষাগ্নিকে উছলিয়ে দেব l তোমরা এ
অগ্নিতে পুড়ে ভষ্ম হয়ে যাবে l
ফলে তোমা বুঝতে পারবে যে,প্রভূ তোমাদের
উপর স্বীয় গোস্বা অবতরন করেছেন
l” [২২:১৯-২২ ]
তাদের কিতাবের “জেরমিয়া”(Jeremiah)
অধ্যায়ে এর থেকেও বেশি ধমকি বর্নিত হয়েছে –
“তাদের উপর শাস্তি ও ধ্বংস অনির্বার্য
হবার পর … l যার পর তাদের
লাশগুলি খোলা আকাশের
নিচে পড়ে থাকতে দেখা যাবে,সেখানে গাধ
কীড়া-মাকড়ের দল তাদের
লাশগুলো খেয়ে ফেলবে l এমনকি তাদের
বাদশা ও লিডারদের লাশগুলি পর্যন্ত
বিগলীত হয়ে যাবে l
ফলে হাড্ডিগুলো পচা কাষ্ঠের ন্যায়
ছড়িয়ে পড়বে l” [৮:৩]
ইহুদিরা তাদের জেরুজালেমে তাদের একত্রিত
হওয়াকে নিজেদের স্বাধীনতা ও বিজয়
মনে করে থাকে l অথচ তাদের কিতাবের
ভাষ্য অনুযায়ী এখানে একত্রিত
হওয়া তাদের জন্য অচিরেই ধ্বংস ও পতনের
কারন হবে l ইসরাইলের বর্তমান পরিস্থিতিও
বিষয়টিকে সত্যায়ন করে যাচ্ছে যে,ইসরাইল
অঙ্চলে ইহুদিদের আবাদ হওয়া এবং একত্রিত
হওয়া মানেই হচ্ছে ইসরাইলের ধ্বংস
সন্নিকটে হওয়া l সামনের দিন গুলোতে কত
ইহুদিকে ইসরাইলের বিভিন্ন সড়কের ধারে কুকুর-
বিড়ালের ন্যায়
পড়ে থাকতে দেখা যাবে একবার
ভাবুন !! তারা ঐ সকল
ইহুদি যারা সমস্ত পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিল
এবং বুক ভরা আশা আর
বড়ত্বকে সঙ্গে নিয়ে ইসরাইলে এসেছিল l আর আজ
কিনা তাদের স্বপ্নীল এলাটিই তাদের
জন্য জিন্দা কবরস্থান প্রমানীত
হয়েছে …!! {অপেক্ষা করুন সেদিন খুব
বেশি দূরে নয় }
তাদের কিতাব “ইয়ারমিয়াতে” আল্লাহ
তায়ালা বলেন –
বৃক্ষগুলি কেটে ফেল এবং জেরুজালেমের
বিরুদ্ধে একটি কেল্লা নিরমান কর l
এটা হচ্ছে ঐ শহর
যেখানে শ্বাস্তি দেওয়া হবে l এর
ভেতরে অন্যায় অবিচার ভরে উঠেছে l
যেমনাকি ঝর্ণা থেকে পানি ভরে উঠতে থাকে
পাপাচার উথলিয়ে উঠেছে l এর ভেতর
থেকে অত্যাচার আর প্রচন্ড অবাধ্যতার
আওয়াজ ভেষে আসছে l আর আমার (প্রভূর)
সামনে আঘাত ও দূঃখ-দূর্দশার
ধারাবাহীক অশুভ বাতাস আসতে শুরু
করেছে l”
“হে ইহুদি মেয়ে !! ভাল
করে তাকিয়ে দেখো !! উত্তর দিক
থেকে একটি জাতী উঠে আসতে শুরু করেছে l ঠিক
তেমনি যমীনের শেষভাগ থেকেও
একটি জাতীকে উঠিয়ে আনা হবে,তাদের
কাছে তীর আর কামান থাকবে l তাদের
অন্তরে কোনরূপ দয়া-মায়া থাকবে না l
তাদের ধ্বনিগুলো সমুদ্রের তরঙ্গের ন্যায় সব
কিছু তছনছ করে দিবে l ঘোড়ার উপর
চড়ে তারা দ্রুত বেগে দৌড়ে আসছে l যেমন-
মনে হয় তারা তোমাদের সাথে লড়াই
করার জন্য আসছে l
তাদের কিতাব “যীফেনিয়া” (Zephaniah)
তে এসেছে –
“তোমরা নিজেদেরকে একত্রিত কর! হ্যা …একত্রিত
করে নিজেদেরকে হে আল্লাহ’র অপছন্দনীয়
সম্প্রদায় !! আল্লাহ’র
ফয়সালা আসার পূর্বেই অথবা ঐ সময়
আসার পূর্বেই,যখন দিবসগুলি ভূসির মত
উঠে যেতে থাকবে অথবা আল্লাহ’র গযব
তোমাদের উপর নাযীল
হতে থাকবে অথবা আল্লাহ’র শাস্তির দিন
তোমাদের সামনে এসে পড়বে l ”
এই অপবিত্র ও অশুভ সম্প্রদায়ের
ব্যাপারে সর্বশেষ অংশটি “ইযাখীল”
থেকে তুলে ধরা হচ্ছে,যাতে করে ইয়াহুদিদের
পা চাটা গোলামেরা বুঝে নিতে পারে যে,
মনীবতূল্য লোকেরা কতটুকু সম্মানীত ও
ভদ্রতাপরায়ন জাতী l
ইযাখীলে এসেছে –
“তোমরা আমার পবিত্র বস্তুগুলো নষ্ট করেছ
এবং আমার অসংখ্য বিধানকে লাঙ্ছিত
করেছ l তোদের মধ্যেই ঐ সকল লোক
বিদ্যমান,যারা রক্ত প্রভাবীত করার
জন্য বাহানা খুজতে থাকে l তোদের মধ্য
থেকেই তারা বেশ্যালয়
পরিচালনা করে থাকে l তোদের মধ্যেই ঐ
সকল বিদ্যমান,যারা স্বীয় পিতার
লজ্জাস্থান কে খুলে থাকে l তোদের
মধ্যে বিদ্যমান লোকেরাই ঋতুস্রাবরত
মহীলাদের থেকে ভোগ উঠানোর চেষ্টা করে l
কেউ নিজের প্রতিবেশীর সাথে জিনা করে,কেউ
আপন বোনের সাথে খারাপ আচরন
করে থাকে,কেউ শালীর
সাথে প্রেমবাহানা করে থাকে,আর কেউ
নিজের বাপের মেয়ের সাথে ব্যাভিচার
করে থাকে l তারা সূদ গ্রহন
করে ফুলে উঠতে থাকে l তাদের
পথপ্রদর্শনকারীরা(ইহুদি আলেম সমাজ)
আমার বিধান নিয়ে ছিনী-মিনী খেলতে থাকে l
তারা লোকদেরকে ভূল পথে পরিচালীত
করে থাকে এবং আমার নাম
নিয়ে মিথ্যা ভ্রষ্ঠ পথ অবলম্বন করে থাকে l
তারা বলে যে,এটাই আল্লাহ’র আদেশ,অথচ
আল্লাহ তায়ালা কখনই এমনটি আদেশ
করেননি l” “ইযাখীল [২২:১-৯]”(ডক্টর ছফর
আল হাওয়ালী কতৃক রচীত ‘দি ডে অফ
রিথ’ এর অনুবাদ_ ﻱ
ﺐﻀﻐﻟﺍ থেকে সংগৃহীত)
কূরআন এ বর্নিত হয়েছে যে, _ ﺪﻋﻭ ﺀﺎﺟ ﺍﺫﺈﻓ
ﺎﻤﻬﻟﻭﺃ ﺎﻨﺜﻌﺑ ﻢﻜﻴﻠﻋ ﺎﻨﻟ ﺍﺩﺎﺒﻋ ﻲﻟﻭﺃ
ﺱﺄﺑ ﺵ
ﺍﻮﺳﺎﺠﻓ ﺭﺎﻳﺪﻟﺍ ﻞﻠﺧ .
অর্থাৎ - “হে বনী ইসরাইল
সম্প্রদায় ! যখন ঐ দুটি প্রতিস্রুত সময়ের
মধ্যে একটি এসে পড়বে,তগন আমি তোমাদের উপর
আমার এমন যুদ্ধবায বান্দাদের প্রেরন
করবো,যারা তোমাদের বস্তিগুলোর
অভ্যন্তরে ঢুকে পড়বে l”
ঐ যুদ্ধবায সম্প্রদায়ের
সম্পর্কে হাদিসে বর্নিত
হয়েছে যে,তারা খোরাসান(আফগানিস্থান)
এর দিক থেকে এসে কাফেরদের সাথে যুদ্ধ
করবে l


শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৩

নরখাদক নরেন্দ্র মোদির ইতিহাস কি মুসলমান ভুলে যাবে



আমার দ্বিতীয় নোট: নরখাদক নরেন্দ্র মোদির ইতিহাস কি মুসলমান ভুলে যাবে??

  ----------Des Wa  24 October 2013 at 18:59
আমার এ নোটখানা আপনাদের কাছে এখন অপ্রয়োজনীয় মনে হলেও কিছুদিন পরে তা খুবই প্রয়োজনীয় বলে মনে হবে। মুসলমানদের একটা বিশেষ স্বভাব হচ্ছে, তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয় না। যার ফলাফলও তারা পায় নিয়মিত ।
আগামী ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে দাড়াতে যাচ্ছে নরখাদক নরেন্দ্র মোদি। অনেকের ধারণা মোদি সম্ভবত নেক্সট ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী।
যেহেতু ভারতে একটি বড় অংশ মুসলমান (সরকার দাবি করে ১৮ কোটি, প্রকৃত সংখ্যা এর দ্বিগুনও হতে পারে) এবং মোদি যেহেতু ‘এন্টি মুসলিম’ তাই মোদিও চাইবে নির্বাচনে জয় পেতে মুসলমানদের তার দলে ভিড়াতে। তাই কিছুদিন পর হয়ত আপনারা দেখতে পারবেন কিছু মুসলমান নামধারী মুনাফিক মোদির পক্ষে সাফাই গাইতে শুরু করেছে। হয়ত দেখতে পাবেন, তারা ইসলামের নাম দিয়ে বলছে “মোদির থেকে ইসলাম প্রিয় আর কেউ নাই, কিংবা মোদির সময় মুসলমানরা সবচেয়ে ভাল থাকে” ইত্যাদি ইত্যাদি।
(আমাকে আবার কংগ্রেসের সাপোর্টার ভাববেন না, ওটাও সেক্যুালার লেভেল আটা খাঁটি হিন্দুত্ববাদী)



বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় সভাপতি রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদি। ছবি: রয়টার্স

আসুন, উগ্রহিন্দুত্ববাদী বিজেপি সম্পর্কে জানি
আমার মনে হয় নতুন করে বিজেপি বা ভারতীয় জনতা পার্টিকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার মত কোন কারণ নেই। তবু বলছি, উগ্রহিন্দুত্ববাদী সংঘ পরিবার বা আরএসএস’র রাজনৈতিক উইং হচ্ছে বিজেপি (আরেকটি হচ্ছে শিবসেনা)। ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ দলটি বর্তমানে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল (কংগ্রেসের পরে)। এ দলটি ভারতে সব সময়ই মুসলিম নিধনে অগ্রগামী। অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভাঙ্গন ও তার পরবর্তী দাঙ্গা কিংবা গুজরাট দাঙ্গার মত বড় দাঙ্গাগুলো তাদের ক্ষমতার আমলেই ঘটনো হয়েছিল।
দলটির প্রত্যেক সভাপতি চাক্ষুষ হিন্দু রাক্ষস। বিজেপি’র তিনবারের সভাপতি লাল কৃষ্ণ আদভানি কিছুদিন পূর্বে বলেছিল: “বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে দেয়া হবে”।
আর এবার সেই বিজেপির আরেক কুখ্যাত সদস্য নরেন্দ্র মোদিকে দেয়া হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে দাড়াতে।

মোদির সংক্ষিপ্ত জীবনী


গুজরাটের মেহসানা জেলার এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জন্ম নরেন্দ্র মোদি’র। চা-বিক্রেতা বাবার চার সন্তানের মধ্যে মোদি ছিলো তৃতীয়। শৈশবে বাবাকে সাহায্য করতো বেদনগর রেলস্টেশনে; যাত্রীদের কাছে হেঁটে হেঁটে চা বেচতো মোদি।
পরিচিতজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশু বয়স থেকেই মোদি ছিল একজন গোড়া হিন্দু। তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, টানা চার দশক ধরে ‘নবরাত্রি’র (উত্তর ভারতে পালিত হিন্দুদের একটি উৎসব) সময় উপবাস করছে মোদি।
জীবনীগ্রন্থ রচয়িতা নীলাঞ্জন মুখোপাধ্যায়ের মতে, কম বয়সে বিয়ে করে মোদি। তবে বিয়ে করার বিষয়টি প্রকাশও করেনি সে। এর পেছনে একটি বড় কারণ ছিল হিন্দু উগ্রবাদী সংগঠনগুলো স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ‘প্রচারক’ পদ। আর এ পদ পেতে গেলে চিরকুমার থাকতে হয়। গোপনীয়তা বজায় না রাখলে হয়তো ওই পদে আসীন হতে পারতো না সে। ১৯৭১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে আরএসএসে যোগ দিয়েছিল মোদি।
রাজনীতিতে জড়ানোর পরও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক সম্পন্ন করে মোদি। পরে গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে সে।
১৯৮৭-৮৮ সময়ে মোদি বিজেপির গুজরাট ইউনিটের সাংগঠনিক সম্পাদক মনোনীত হয়। মূলত, এর মধ্য দিয়েই মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশ করে সে।
দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জেরে ধীরে ধীরে বিজেপিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করেন মোদি। ১৯৯০ সালে তিনি আদভানির নেতৃত্বে সোমনাথ থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত রথযাত্রায় বড় ভূমিকায় ছিলো।
১৯৯১ সালে তৎকালীন দলীয় প্রধান মুরলি মনোহর যোশির নেতৃত্বে কন্যাকুমারী-শ্রীনগর একতা যাত্রারও অন্যতম সংগঠক ছিলো মোদি।

মুসলমানদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতা:


২০০১ সালে গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কেশুভাই প্যাটেলকে সরিয়ে দিল্লি অফিসের এক নাম জানা পদাধিকারী নরেন্দ্র মোদিকে দায়িত্ব দিয়েছিল বিজেপি। তাকে সাপোর্ট দিয়েছিল লালকৃষ্ণ আদভানি। সাময়িক ক্ষমতা পাওয়ার পর তা পাকাপোক্ত করতে মুসলমানদের রক্তকে বেছে নিয়েছিল মোদি। মুসলমানদের রক্ত দেখলে হিন্দুরা খুশি হবে, আর তাতেই ক্ষমতা আসবে তার হাতে। হয়েছিলও তাই, গোধরার ট্রেনে নিজেরাই আগুন লাগিয়ে তার দোষ দিয়েছিল মুসলমানদের ঘাড়ে। মেরে কেটে একাকার করেছিল মুসলমানদের, ধর্ষণ করে আগুনে পুড়িয়েছিল মুসলিম মা-বোনদের, তাড়িয়ে দিয়েছিল মুসলমানদের বাড়ি থেকে। আর এই মুসলিম নিধনেই হিন্দুদের কাছে জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠল এ হিন্দুউগ্রবাদী নেতা। ২০০২ থেকে বর্তমান পর্যন্ত টানা তিন বার (প্রথমবার সহ চারবার) বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হলো এ সন্ত্রাসী ।

গুজরাট দাঙ্গার খলনায়ক মোদি:


২০০২ সালে মোদীর জনতা পার্টি যে মুসলিম নিধনে প্রত্যক্ষ জড়িত ছিল তার বহু দলিল রয়েছে। দাঙ্গার সময় মোদীর সহযোগী ভিএইচপি’র নেতারা উগ্র বক্তব্য দিয়ে মানুষকে উত্তেজিত করে তুলছিল। এই ভিএইচপি নেতাদের মোদীর সরকার বাধাতো দেয়ই নাই বরং সহযোগিতা করেছে।


সেই সময় দায়িত্বরত পুলিম কর্মকর্তা সঞ্জিব ভাট ভারতীয় সুপ্রিমকোর্টের কাছে তার হলফনামায় বলেছিল, ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গোধরা কা-ের পর নরেন্দ্রমোদি পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়, হিন্দুরা মুসলমানদের প্রতি যেন তাদের ক্ষোভ মেটাতে পারে, পুলিশকে সে ব্যবস্থা করে দিতে হবে। ভাট এক্ষেত্রে নরেন্দ্র মোদির নির্দেশ সরাসরি তুলে ধরে যাতে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী মোদি বলেছিলো, “মুসলমানরা যাতে পুনরায় এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে না পারে, সেজন্য তাদেরকে উচিত শিক্ষা দেয়ার এটি মোক্ষম সময়।”

 
এ বক্তব্যের পর ২৮শে ফেব্রুয়ারী ২০০২ তারিখে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের মাত্র ৬ কিলোমিটারের মধ্যে ১৫০ জন মুসলমানকের আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে উগ্র হিন্দুরা। আর দাঙ্গায় মূল প্রাণহানী প্রথম কয়েকদিনে হলেও, প্রায় তিন মাস ধরে চলে লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে হত্যা, ধর্ষণ ও বাস্তুচ্যুত করা হয়।

গুজরাটের গোধরা দাঙ্গার প্রথম দিনেই (২৮ ফেব্রুয়ারী ২০০২) যখন শহরের বিভিন্ন স্থান আগুনে পুড়ছিল, মারা যাচ্ছিল শত শত মুসলিমকে, তখন রাজ্যের
CMO পি কে মিশ্র দাবী করে “শহর একেবারে স্বাভাবিক!” তাকে যখন বলা হয় প্রাক্তন কংগ্রেস এমপি এহসান জাফরি এই দাঙ্গায় নিহত হয়েছেন তখনও তার উত্তর ছিল যে এরকম কিছুই ঘটেনি।
মোদী যদিও সবসময় বলে আসছিল যে গুজরাটের হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গাটা ছিল তাৎক্ষণিক, কিন্তু দেখা গেছে এতে তার দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এর মহিলা ও শিশু উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী কোদনানীকে আদালত ২৮ বছর জেল দেয় দাঙ্গা উস্কে দেয়ার জন্য, যাকে মোদী পুরুষ্কার স্বরূপ ক্যাবিনেট মিনিস্টার হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছিল

গুজরাটে মুসলিম নিধন সম্পর্কে মোদির বক্তব্য: কুুকুর মরলে দু:খ পাবো
ভারতের গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০০২ সালের মুসলিম বিরোধী দাঙ্গার জন্য অনুতপ্ত নয় বলে ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে মোদি বলেছে, তাকে বহনকারী মোটরগাড়ি কোনো কুকুর ছানাকে চাপা দিলে সে জন্য দুঃখ অনুভব করবে সে। রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে মোদি আরো দাবি করে, আমি যদি অপরাধ করে থাকতাম তবে অনুশোচনায় ভুগতাম।
মোদির এ বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছে সমাজবাদী পার্টি। এ বক্তব্যের জন্য মোদিকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে এ দলের মুখপাত্র কামাল ফারুকি বলেছে, “মোদি কি মনে করে ভারতের মুসলমানরা কুকর ছানার চেয়েও অধম?”

মোদিকে প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দেয়ার শর্ত ‘উগ্রহিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠা তথা মুসলিম নিধন”
সঙ্ঘ পরিবার বা আরএসএসকে মোদী জানিয়েছে, তাঁকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী করা হলে হিন্দুত্বের কর্মসূচিকে সে বিশেষ ভাবে গুরুত্ব দেবে। আরএসএস চাইছে, রামমন্দির নির্মাণ, সংবিধানের ৩৭০ ধারা (জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা) বিলোপ ও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এই তিনটি সাবেক বিষয়কে বিজেপি ফের সামনে নিয়ে আসুক। সেই সঙ্গে গরু কুরবানী বন্ধের বিষয়টিকেও কর্মসূচিতে আনা হোক। মোদি স্পষ্ট করে বলেছে,  মতাদর্শগত এই সব বিষয়কে সে প্রচারে অগ্রাধিকার দেবে।

আমি আবারো বলছি, এই ইতিহাসটা আপনার সংগ্রহে রাখুন। কিছুদিন পরেই এটা আপনাদের বিশেষ কাজে লাগবে। কারণ ক্ষমতা আর টাকার লোভে একদল দাড়ি-টুপি ওয়ালা লোক মোদির এই অপকীর্তিসমূহ অস্বীকার করতে চাইবে। বিভিন্ন যুক্তিতর্ক দিয়ে সন্ত্রাসী নরেন্দ্র মোদিকে ভাল বানাতে চাইবে। তখন আমার এ নোটের কথা মনে করবেন। (গরীবের কথা বাসি হলে ফলে)


 

















 
 
 




বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

দাজ্জালের মোকাবিলায় কৃষক সমাজ

দাজ্জালের মোকাবিলায় কৃষক সমাজ

যারা দাজ্জালের প্রভুত্ব মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানাবে, দাজ্জাল তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে ফিরে যাবে। এ যুগে কৃষক সমাজ বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পারবে। বিষয়টিতে বিস্তারিত আলোচনায় প্রবেশ করার আগে একটি শব্দের মর্ম বুঝে নিন।

শব্দটি হল ‘পেটেন্ট’, যার অর্থ ‘আবিষ্কৃত দ্রব্য তৈরি বা বিক্রয়ের একক অধিকার’। এটি একটি আইন, যা মালিকের মালিকানা স্বত্তকে প্রমাণিত করে। এটি নতুন এক আন্তর্জাতিক কৃষিনীতি, যাকে কৃষক সমাজের উন্নতি ও স্বচ্ছলতার ক্ষেত্রে বিপ্লব নাম দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই নীতি কৃষকের হাত থেকে উৎপাদিত শস্যের এক একটি দানা কেড়ে নেওয়ার গভীর এক চক্রান্ত।

ইহুদী কোম্পানিগুলো যদি কোন শস্যবীজকে পেটেন্ট করে নেয়, তা হলে তার এই অর্থ এই দাঁড়ায় যে, সে এটির মালিক হয়ে গেছে। যেমন – তারা যদি একটা নাম দিয়ে কোন মুসলিম রাষ্ট্রের কোন বিশেষ প্রজাতির চালকে পেটেন্ট করে নেয়, তাহলে সেই মুসলিম দেশের প্রতিজন কৃষক সেই বিশেষ প্রজাতির চালের বীজ উক্ত কোম্পানির কাছ থেকে কিনতে বাধ্য হবে। এমতাবস্থায় যদি তারা নিজেরা বীজ উৎপাদন করে, তা হলে এই অপরাধের দায়ে তাদেরকে জরিমানা আদায় করতে ও জেলের বাতাস খেতে হবে। যেহেতু এই ধরনের বীজ কৃত্রিম উপায়ে জেনেটিক পদ্ধতিতে তৈরি করা হয়, তাই এই ধরনের বীজ একবছরই ফসল উৎপন্ন করতে সক্ষম। পরবর্তী বছর যদি পুনরায় এই চালের চাষ করতে হয়, তাহলে নতুন বীজ ক্রয় করতে হবে। সেই সঙ্গে ফসলের রোগ বালাই দমনে ওই কোম্পানির ওষুধই কাজ করবে।

এই আইনটি দেখতে খুবই সরল মনে হয়। কিন্তু বিষয়টি ‘যার লাঠি তার মহিষ’ ধরনের। এই আইনের উপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক ইহুদী কোম্পানিগুলো বিশ্ব বাজারের উপর নিয়ন্ত্রন প্রতিষ্ঠার পর এবার পৃথিবীর উৎপাদিত শস্যের উপর কব্জা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই আইন তৈরি করেছে, যাতে কাল যদি কেউ তাদের কথা মান্য করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে তাকে খাদ্যের প্রতিটি কণার জন্য মুখাপেক্ষী বানিয়ে দেওয়া যায়।

পেটেন্ট বিলের মাধ্যমে এভাবে তারা ধীরে ধীরে উৎপাদিত শস্যের উপর কব্জা প্রতিষ্ঠিত করে চলছে। অল্পদিনের মধ্যেই তারা সমগ্র পৃথিবীর শস্যের উপর কব্জা প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। বিষয়টি আরও ভালোভাবে বুঝতে হলে ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে দেখা যায়, বর্তমানে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই ‘ফার্মারস কোর্ট’ এ পেটেন্ট নিয়ে কৃষকদের সাথে পেটেন্টকারী কোম্পানির কত কেস চলছে।

খাদ্য উৎপাদনকে নিজের মুঠোয় নেওয়া ছাড়াও ইহুদীদের আরও একটি ধ্বংসাত্মক মিশন হল, তারা জীবাণু অস্ত্রের মাধ্যমে যে কোন ফসল ধ্বংস করে দেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করছে। হয়তো ইতিমধ্যে কিছু জীবাণু অস্ত্র তৈরিও করে ফেলেছে।

নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা কিছু বর্ণনা করেছেন, সে সব অবশ্যই পূর্ণ ও বাস্তবায়িত হবে। বাহ্যিক পরিস্থিতি এখনই তার অনুকুল হোক আর না হোক। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, পরিস্থিতি নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুকুল হতে চলেছে। কাজেই এখনও সে সব ভয়াবহতা ও দুর্যোগ সম্পর্কে উদাসিন থাকা বিবেক ও দ্বীনদারির পরিচয় নয়।



সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

দাজ্জালের ধোঁকা ও প্রতারণা

দাজ্জালের ধোঁকা ও প্রতারণা

যেমনটি আগে বলা হয়েছে, দাজ্জালের প্রতারণা হবে বহুমুখী। মিথ্যাচার, প্রতারণা, গুজব ও প্রোপাগান্ডা এত বেশি হবে যে, বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও তার ব্যাপারে সন্দিগ্ধ হয়ে পড়বে যে, লোকটি মাসিহ, নাকি দাজ্জাল?

সাধারণত মানুষের ধারণা হল, দাজ্জাল শুধু কুতসিত একটি চেহারা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করবে। বিষয়টি যদি এত সহজ হতো, তা হলে আতঙ্কিত হওয়ার কোনই কারণ ছিল না। সত্য হল, কুৎসিত মুখাবয়ব সত্ত্বেও তার কর্মকান্ড বিশ্বের সামনে এমনভাবে উপস্থাপন করা হবে যে, মানুষ ভাবতে বাধ্য হয়ে পড়বে, যদি এই লোকটি দাজ্জাল হতো, তাহলে এমন ভালো কাজ কখনও করত না। জগতে আবির্ভূত হয়ে সে এত বেশি ফেতনার জন্ম দিবে, যার সংখ্যা নির্ণয় করা কঠিন। তবে বিভিন্ন হাদিসের আলোকে এখানে একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র উপস্থাপন করছি যে, দাজ্জালের কর্মপদ্ধতি কোন ধরনের হতে পারে।

১। দাজ্জালের আবির্ভাবের আগের বছরগুলোতে পৃথিবীতে বহু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ ও গণহত্যা চলতে থাকবে। বেকারত্ব, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য ও সামাজিক অবিচারের রাজত্ব চলবে। পরিবারে শান্তি ও নিরাপত্তা নিঃশেষ হয়ে যাবে। সর্বত্র পাপ ও মন্দের জয়জয়কার হবে। কোথাও কোথাও কিছু সৎকর্ম ও সচ্চরিত্র চোখে পড়বে। মানুষ এমন লোকেরও প্রশংসা করবে, যে ৯৯ ভাগ পাপ ও অন্যায়ে লিপ্ত; মাত্র ১ ভাগ সৎকাজ করছে। নেতাদের থেকে নিরাশ হয়ে মানুষ এমন কোন মুক্তিদাতার সন্ধানে থাকবে, যাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরণ করা হবে।

২। এবার দাজ্জালের চেলা মিডিয়া বা অন্য কোন উপায়ে এক নেতাকে মানবতার মুক্তিদাতা বানিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে উপস্থাপন করবে এবং প্রমাণ করবে যে, ইনি বেকারদের কর্মসংস্থান দিয়েছেন, দুর্ভিক্ষকবলিত অঞ্চলগুলোতে পানাহারের উপকরণ পৌঁছে দিয়েছেন, বিভিন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বিদ্বেষ ও শত্রুতা দূর করে তাদেরকে ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের পথে তুলে দিয়েছেন, পৃথিবী থেকে অপরাধপ্রবণ লোকদের নির্মূল করেছেন, ঘরে ঘরে ন্যায় বিচার পৌঁছে দিয়েছেন, যার ফলে এখন পৃথিবীর সকল জাতিকে এক চোখে দেখা হচ্ছে। এভাবে সে নিজেকে খোদা দাবি করার আগে বিশ্ববাসীর সমর্থন ও সহমর্মিতা অর্জন করে নেবে। বলা বাহুল্য, এই যুগে যদি কোন ব্যক্তি এতগুলো মহৎ কর্ম আঞ্জাম দিতে সক্ষম হয়, তা হলে পাশ্চাত্য মিডিয়ায় আস্থাশীল বিশ্ব তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হতে বাধ্য হবে। এভাবে মানুষের সমর্থন ও সহমর্মিতা তার সঙ্গী হয়ে যাবে।

৩। তারপর দাজ্জাল সর্বপ্রথম মানুষের মন মস্তিষ্কে এই বুঝ ঢুকিয়ে দিবে যে, সে নিজেই রব এবং সে নিজেকে ‘রব’ দাবি করে বসবে।


দাজ্জালকে জয়ী করার লক্ষ্যে ইবলিসি চক্রান্তসমূহ

দাজ্জালকে জয়ী করার লক্ষ্যে মাহদি বিরোধী সম্ভাব্য ইবলিসি চক্রান্তসমূহ:

এটি ইবলিসের পুরনো রীতি যে, সে সত্যকে সংশয়যুক্ত বানানোর লক্ষ্যে নিজের তৈরি এজেন্টদেরকে সত্যের দাবিসহ মাঠে নামিয়ে দেয় এবং সত্যকে মিথ্যা বানানোর চেষ্টা চালায়। ইবলিসের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা এই হবে যে, হযরত মাহদির আগমনের পূর্বে সে একাধিক নকল মাহদি দাড় করিয়ে দিবে, যাতে কিছু লোক তাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে সত্য থেকে দূরে সরে যায় এবং যখন আসল মাহদির আগমন ঘটবে, তখন মানুষ আপনা থেকেই সংশয়ের শিকার হয়ে পড়বে যে, কে বলবে, ইনি আসল মাহদি, না ভুয়া মাহদি। ‘বিভ্রান্তকারী নেতৃবৃন্দ বিষয়ক’ হাদিসে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। এক্ষেত্রে ইবলিসের প্রচেস্টাসমূহ অনেকটা এরকম হতে পারেঃ

১। মিথ্যা মাহদির দাবিদারদেরকে দাড় করাবে। তাদের মাঝে হযরত মাহদির গুণাবলী আছে বলে প্রচার করে মুসলমানদের ধোঁকা দেওয়া হবে। এই ভুয়া মাহদির দাবিদার একাধিক হবে। আর একথা বলার অবকাশ থাকে না যে, এই মাহদিদেরকে অপার বিদ্যা, সুদর্শন আকার গঠন ও একদল ভক্ত মুরীদসহ জনসন্মুখে উপস্থিত করা হবে এবং বড় বড় জুব্বা-কাবাওয়ালা মানুষ এই মিথ্যা মাহদিদেরকে আসল মাহদি বলে প্রমাণিত করতে সচেষ্ট হবে। ‘কাদিয়ানী’ সম্প্রদায়ের সৃষ্টিকারী গোলাম আহমদ কাদিয়ানী নিজেকে প্রথম ইমাম মাহদি, পরে মাসিহ এবং সবশেষে নবীই দাবি করে বসে। আর বর্তমানে এই কাদিয়ানী সম্প্রদায়ের প্রতি পশ্চিমাদের এবং উপমহাদেশে তাদের দালাল মিডিয়ার সমর্থন সম্পর্কে প্রায় সব সচেতন মুসলিমই ওয়াকিবহাল। ১৯৭৯ সালেও এক ব্যক্তি নিজেকে ইমাম মাহদি দাবি করে মক্কা শরীফের মধ্যে এক ফিতনার সৃষ্টি করেছিল।

২। ইবলিসি শক্তিগুলোর পক্ষ থেকে দ্বিতীয় পদ্ধতিটি হতে পারে যে, তারা আসল মাহদির অপেক্ষায় থাকবে এবং তার এজেন্ট ও প্রপোগান্ডার মাধ্যমে তাকে মিথ্যা প্রমাণিত করার চেষ্টা করবে। এর জন্য তারা প্রতিটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পণ্ডিত ব্যক্তিবর্গের সেবা গ্রহণের চেষ্টা চালাবে, যেমনটি এযুগেও আমরা প্রত্যক্ষ করছি। বিষয়টি সহজে বুঝবার জন্য একটি দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করছি।

যে কোন বিশিষ্ট ব্যক্তির কিছু সমর্থক সহযোগী থাকে, আবার কিছু বিরুদ্ধবাদীও থাকে। আপনি যে কোন মতাদর্শের নেতাকে দেখুন, দেখবেন, কিছু লোক তার জন্য নিবেদিত প্রাণ আবার কিছু মানুষ তার ঘোর সমালোচক। এমনকি তাদের কাফেরদের এজেন্ট আখ্যায়িত করার লোকেরও অভাব হবে না। প্রত্যেক মতাদর্শের লোকেরা আপন আপন নেতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে থাকে। কেউ যদি তার নেতাকে জিজ্ঞেস করে, অমুক ব্যক্তির আজকাল খুব নামডাক শোনা যাচ্ছে। শুনেছি, তিনি অনেক বড় একজন আল্লাহর ওলী। অনেক ত্যাগী আলেম। তো হযরত তার ব্যাপারে আপনার মতামত কি? তার ব্যাপারে এই হযরত যে অভিমত ব্যক্ত করবেন, তার পুরো অঙ্গনে সেই অভিমতই অনুসৃত হবে। হযরত যদি বলে দেন, সরকারের লোক; তার থেকে দূরে থাকো, তাহলে দেখবেন, লোকটি যুগের আবদালই হোক না কেন, ফেরেশতারা তার চলার পথে পালক বিছিয়ে দিক না কেন, হজরতের ফতোয়ার পর তার গোটা ভক্তমহল তাকে “সরকারের দালাল” বলে আখ্যায়িত করবে।

এটি এমন এক ব্যাধি, যাতে সমাজের সেই শ্রেণীটি বেশি আক্রান্ত, যার প্রতিজনের হাতে সত্যের পতাকা রয়েছে। বিস্ময়কর বিষয় হল, প্রতিজন সদস্যের পতাকা একজনেরটি অপরজনের থেকে ভিন্ন। তাছাড়া একই মতাদর্শের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও প্রত্যেকের দাবি, আমার পতাকাই সত্যের পতাকা।

আহ, তারা যদি নিজ নিজ আমিত্তের পতাকাগুলোকে অবনমিত করে ফেলত, টা হলে আল্লাহর কসম, সত্যের পতাকা তাদেরই হাতে বিশ্বময় পতপত করে উড়ত। হায়, যদি তারা আপন মন মস্তিস্ক ও চিন্তা চেতনার সীমাবদ্ধ সীমান্তগুলোকে অসীম করে ফেলত, তাহলে আজ জল ও স্থল, মরু ও মহাশূন্য সব তাদের ধ্বনিতে মুখরিত থাকতো। যদি তারা একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে দালালির ফতোয়া আরোপের পরিবর্তে ইসলামের শত্রুদের প্রতি মনোনিবেশ করতো, তাহলে শুধু তাদেরই সারি থেকে কেন, সকল ক্ষেত্র থেকে শত্রুর এজেন্টরা নির্মূল হতো। দাজ্জালের এসব ভয়াবহ ধোঁকা ও প্রতারণার কথা ভেবে মুমিন জননী হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রাঃ) এর মতো মহান ব্যক্তিগণও কেঁদে উঠতেন। মহানবীর সাহাবাগণও ক্রন্দন করতেন।

এ ছিল তাদের পরকালের ভয়। অন্যথায় তাদের মতো ব্যক্তিত্বদের সমস্যার কিছু ছিল না। যে লোকটি আল্লাহর পক্ষ থেকে হিদায়াতপ্রাপ্ত, নূরে এলাহি দ্বারা যাকে পথ দেখানো হয়ে থাকে, তার আবার ভাবনা কিসের। চিন্তা তো থাকা দরকার গুনাহগারদের। কিন্তু আফসোস! আমরা কখনও ভেবে দেখার কষ্টটুকু পর্যন্ত স্বীকার করি না। আর এমনভাবে নিশ্চিন্তমনে জীবন অতিবাহিত করছি, যেন কোন ফিতনাই নাই।

http://www.amin-baig.blogspot.com/2013/09/blog-post_23.html

শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

আপনি কি সাম্প্রদায়িক?

আপনি কি সাম্প্রদায়িক?

আমাদের দেশে তথা সারা বিশ্বে যখন কোনো একদল লোক নিজের বিশ্বাসের পরিবর্তে কোন একটি ভাষা বা ভৌগলিক অঞ্চল কে ভিত্তি করে দলাদলি করে তখন এর নাম হয় দেশপ্রেম, patriotiism, nationalism , জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি । যারা এমন করে তাদের কে বলা হয় দেশপ্রেমিক বা জাতীয়তাবাদী । সমাজে ও মিডিয়াতে একে খুব পসিটিভ দৃষ্টি তে দেখা হয় । এরা অন্য ভৌগলিক অঞ্চল বা ভাষার লোক কে পর মনে করে নিজের ভৌগলিক অঞ্চল বা ভাষার লোকদের আপন মনে করে । দরকার হলে অন্য ভৌগলিক অঞ্চল বা ভাষার লোকদের উপর নিজের শ্রেষ্টত্ত জাহির করতে ভুল করেনা, প্রয়োজনে তাদের সাথে যুদ্ধ করতেও বাধেনা । কিন্তু এরা আবার চায় যে নিজ ভৌগলিক অঞ্চল বা ভাষার লোকদের মধ্যে ধর্মের জন্য কোনো দলাদলি না হোক ।

পৃথিবীর অন্যন্য দেশের মত বাংলাদেশ এরকম লোকে ভরপুর । সীমান্তের ওপাশে বৌদ্ধরা মুসলিম মারলে তাদের কষ্ট হয়না কারন মুসলিম রোহিঙ্গা রা তো আর বাঙালি বা বাংলাদেশী না । কিন্তু সীমান্তের এপাশে মুসলিমরা বৌদ্ধ মারলে তাদের বেশ কষ্ট হয় কারণ ওই বৌদ্ধরা তো বাঙালি বা বাংলাদেশী । তারা মানববন্ধন, প্রেস ইভেন্ট ইত্যাদি করে । তারা বিশ্ব মানবতার কথা বলে ঠিকই কিন্তু খালি বাঙালি বাংলাদেশী মরলেই তাদের দু:খ উথলিয়ে উঠে । তাদের এই মায়া যে খালি এই ভুখন্ডের বাঙালি বাংলাদেশীদের জন্য তাও না, দূর দেশে যেখানেই তারা থাকুক তাদের জন্য তাদের সমান মায়া । লিবিয়ার সংঘাতে এত লোক মারা গেল তাতে তাদের ভ্রুক্ষেপ হয়নি কিন্তু ওখানের গুটিকয়েক বাংলাদেশী ঠিক মত দেশে ফিরল নাকি তা নিই তাদের চিন্তা । এরা চায় এই ভাষার ও ভুখন্ডের লোকদের মধ্যে কোনো রকম বিদ্বেষ না থাকুক - 'বাংলার মুসলিম , বাংলার হিন্দু , বাংলার বৌদ্ধ , বাংলার খৃষ্ঠান - আমরা সবাই বাঙালি' - এ হলো তাদের স্লোগান । কিন্তু বাইরের দেশের লোকদের প্রতি বিদ্বেষ থাকলে কোনো সমস্যা নাই কারণ তারা তো আর বাঙালি না । তাই ইন্ডিয়া পাকিস্তান কে জাতি ধরে একবারে গালি দিলেও একে খারাপ মনে করা হয়না । তাদের কাছে বাঙালিত্ত আগে, ধর্ম পরে ।

পৃথিবীতে আরেকটি minority আছে যারা নিজেদের বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে দলাদলি করে । এদের কে বলা হয় সাম্প্রদায়িক । সমাজে ও মিডিয়াতে একে খুব নেগেটিভ দৃষ্টি তে দেখা হয় ।

আমাদের দেশেও এই minority গ্রুপ টি আছে । এরা নিজেদের সামগ্রিক মুসলিম উম্মাহর অংশ মনে করে । পৃথিবীর কথাও মুসলিম দের উপর আক্রমন বা নির্যাতন হলে তাদের প্রাণ কাঁদে যদিও তারা বাঙালি বা বাংলাদেশী না হয় । তাদের কাছে সব মুসলিম ই সমান সবাই তার ভাই বোন সে হোক বাঙালি বা রুশি বা ইন্ডিয়ান বা আফগানী । তারা মিশরের/সিরিয়ার/ইরাকের/ফিলিস্তিনের ... নির্যাতন ও হত্যা কে ঠিক সেভাবেই খেয়াল করে ও প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে যেভাবে তারা নিজের দেশের সীমান্তে নির্যাতন ও হত্যা কে খেয়াল করে ও প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে । তাদের কাছে ইসলামিক পরিচয় আগে, ভাষা বা ভৌগলিক পরিচয় পরে ।

এখন দেখা যাক মহান আল্লাহ তাআলা কুরআন শরীফে এ বিষয়ে কি বলেছেন :

১. মুসলিমদের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে :

"আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমরা সে নেয়ামতের কথা স্মরণ কর, যা আল্লাহ তোমাদিগকে দান করেছেন। তোমরা পরস্পর শত্রু ছিলে। অতঃপর আল্লাহ তোমাদের মনে সম্প্রীতি দান করেছেন। ফলে, এখন তোমরা তাঁর অনুগ্রহের কারণে পরস্পর ভাই ভাই হয়েছ। তোমরা এক অগ্নিকুন্ডের পাড়ে অবস্থান করছিলে। অতঃপর তা থেকে তিনি তোমাদেরকে মুক্তি দিয়েছেন। এভাবেই আল্লাহ নিজের নিদর্শনসমুহ প্রকাশ করেন, যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হতে পার।" (৩:১০৩)

"আর ঈমানদার পুরুষ ও ঈমানদার নারী একে অপরের সহায়ক। তারা ভাল কথার শিক্ষা দেয় এবং মন্দ থেকে বিরত রাখে। নামায প্রতিষ্ঠা করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নির্দেশ অনুযায়ী জীবন যাপন করে। এদেরই উপর আল্লাহ তা’আলা দয়া করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশীল, সুকৌশলী।" (৯:৭১)

এ বিষয়ে একটি হাদিস :

রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, তোমরা মুমিনদেরকে পরস্পরে মিল-মহববত ও একে অন্যের প্রতি দয়া করার ক্ষেত্রে এক শরীরের ন্যায় দেখবে। তারা এমন একটি শরীরের মতো হবে, যখন তার একটি অঙ্গ কষ্ট পায় তখন সমস্ত শরীর ব্যথিত হয়ে যায়।-সহীহ বুখারী, হাদীস : ৬০১১; মুসলিম, হাদীস : ২৫৮৬.

২. অমুসলিমদের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে :

"মুমিনগন যেন অন্য মুমিনকে ছেড়ে কেন কাফেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে। যারা এরূপ করবে আল্লাহর সাথে তাদের কেন সম্পর্ক থাকবে না। তবে যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোন অনিষ্টের আশঙ্কা কর, তবে তাদের সাথে সাবধানতার সাথে থাকবে আল্লাহ তা’আলা তাঁর সম্পর্কে তোমাদের সতর্ক করেছেন। এবং সবাই কে তাঁর কাছে ফিরে যেতে হবে।" (৩:২৮)

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা মুমিন ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গরূপে গ্রহণ করো না, তারা তোমাদের অমঙ্গল সাধনে কোন ক্রটি করে না-তোমরা কষ্টে থাক, তাতেই তাদের আনন্দ। শত্রুতাপ্রসুত বিদ্বেষ তাদের মুখেই ফুটে বেরোয়। আর যা কিছু তাদের মনে লুকিয়ে রয়েছে, তা আরো অনেকগুণ বেশী জঘন্য। তোমাদের জন্যে নিদর্শন বিশদভাবে বর্ণনা করে দেয়া হলো, যদি তোমরা তা অনুধাবন করতে সমর্থ হও।" (৩:১১৮)

"তারা চায় যে, তারা যেমন কাফের, তোমরাও তেমনি কাফের হয়ে যাও, যাতে তোমরা এবং তারা সব সমান হয়ে যাও। অতএব, তাদের মধ্যে কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, যে পর্যন্ত না তারা আল্লাহর পথে হিজরত করে চলে আসে।" (৪:৮৯)

"যারা মুসলমানদের বর্জন করে কাফেরদেরকে নিজেদের বন্ধু বানিয়ে নেয় এবং তাদেরই কাছে সম্মান প্রত্যাশা করে, অথচ যাবতীয় সম্মান শুধুমাত্র আল্লাহরই জন্য।" (৪:১৩৯)

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা কাফেরদেরকে বন্ধু বানিও না মুসলমানদের বাদ দিয়ে। তোমরা কি এমনটি করে নিজের উপর আল্লাহর প্রকাশ্য দলীল কায়েম করে দেবে?" (৪:১৪৪)

"হে মুমিণগণ! তোমরা ইহুদী ও খ্রীষ্টানদেরকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করো না। তারা একে অপরের বন্ধু। তোমাদের মধ্যে যে তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ জালেমদেরকে পথ প্রদর্শন করেন না।" (৫:৫১)

"হে মুমিনগণ, আহলে কিতাবদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের ধর্মকে উপহাস ও খেলা মনে করে, তাদেরকে এবং অন্যান্য কাফেরকে বন্ধু রূপে গ্রহণ করো না। আল্লাহকে ভয় কর, যদি তোমরা ঈমানদার হও।"(৫:৫৭)

"আপনি তাদের অনেককে দেখবেন, কাফেরদের সাথে বন্ধুত্ব করে। তারা নিজেদের জন্য যা পাঠিয়েছে তা অবশ্যই মন্দ। তা এই যে, তাদের প্রতি আল্লাহ ক্রোধান্বিত হয়েছেন এবং তারা চিরকাল আযাবে থাকবে।"(৫:৮০)

"যদি তারা আল্লাহর প্রতি ও রসূলের প্রতি অবতীর্ণ বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করত, তবে কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই দুরাচার।"(৫:৮১)

"তোমরা কি মনে কর যে, তোমাদের ছেড়ে দেয়া হবে এমনি, যতক্ষণ না আল্লাহ জেনে নেবেন তোমাদের কে যুদ্ধ করেছে এবং কে আল্লাহ, তাঁর রসূল ও মুসলমানদের ব্যতীত অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করা থেকে বিরত রয়েছে। আর তোমরা যা কর সে বিষয়ে আল্লাহ সবিশেষ অবহিত।" (৯:১৬)

"আপনি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করেননি, যারা আল্লাহর গযবে নিপতিত সম্প্রদায়ের সাথে বন্ধুত্ব করে? তারা মুসলমানদের দলভুক্ত নয় এবং তাদেরও দলভূক্ত নয়। তারা জেনেশুনে মিথ্যা বিষয়ে শপথ করে। "(৫৮:১৪)

"যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে, তাদেরকে আপনি আল্লাহ ও তাঁর রসূলের বিরুদ্ধাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভ্রাতা অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়। তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর অদৃশ্য শক্তি দ্বারা। তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। তারা তথায় চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ, আল্লাহর দলই সফলকাম হবে। "(৫৮:২২)

"মুমিনগণ, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তো তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তারা যে সত্য তোমাদের কাছে আগমন করেছে, তা অস্বীকার করছে। তারা রসূলকে ও তোমাদেরকে বহিস্কার করে এই অপরাধে যে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস রাখ। যদি তোমরা আমার সন্তুষ্টিলাভের জন্যে এবং আমার পথে জেহাদ করার জন্যে বের হয়ে থাক, তবে কেন তাদের প্রতি গোপনে বন্ধুত্বের পয়গাম প্রেরণ করছ? তোমরা যা গোপন কর এবং যা প্রকাশ কর, ত আমি খুব জানি। তোমাদের মধ্যে যে এটা করে, সে সরলপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। "(৬০:১)

"মুমিনগণ, আল্লাহ যে জাতির প্রতি রুষ্ট, তোমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো না। তারা পরকাল সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গেছে যেমন কবরস্থ কাফেররা নিরাশ হয়ে গেছে। "(৬০:১৩)

"ইহুদী ও খ্রীষ্টানরা কখনই আপনার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না, যে পর্যন্ত না আপনি তাদের ধর্মের অনুসরণ করেন। বলে দিন, যে পথ আল্লাহ প্রদর্শন করেন, তাই হল সরল পথ। যদি আপনি তাদের আকাঙ্খাসমূহের অনুসরণ করেন, ঐ জ্ঞান লাভের পর, যা আপনার কাছে পৌঁছেছে, তবে কেউ আল্লাহর কবল থেকে আপনার উদ্ধারকারী ও সাহায্যকারী নেই।" (২:১২০)

৩. খুব আপন অমুসলিমদের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে :

"হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় পিতা ও ভাইদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করো না, যদি তারা ঈমান অপেক্ষা কুফরকে ভালবাসে। আর তোমাদের যারা তাদের অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে তারা সীমালংঘনকারী।" (৯:২৩)

আর আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহারের জোর নির্দেশ দিয়েছি। তার মাতা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভে ধারণ করেছে। তার দুধ ছাড়ানো দু বছরে হয়। নির্দেশ দিয়েছি যে, আমার প্রতি ও তোমার পিতা-মতার প্রতি কৃতজ্ঞ হও। অবশেষে আমারই নিকট ফিরে আসতে হবে।পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহঅবস্থান করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো। (৩১:১৪)

"হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের উপর প্রতিষ্ঠিত থাক; আল্লাহর ওয়াস্তে ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্যদান কর, তাতে তোমাদের নিজের বা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্নীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তবুও। কেউ যদি ধনী কিংবা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তাদের শুভাকাঙ্খী তোমাদের চাইতে বেশী। অতএব, তোমরা বিচার করতে গিয়ে রিপুর কামনা-বাসনার অনুসরণ করো না। আর যদি তোমরা ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বল কিংবা পাশ কাটিয়ে যাও, তবে আল্লাহ তোমাদের যাবতীয় কাজ কর্ম সম্পর্কেই অবগত।" (৪:১৩৫)

আপনাদের কাছে আল্লাহর বাণী পেশ করলাম । এখন কোন ধরনের দলাদলি করবেন তা আপনার ইচ্ছা । কিন্তু যে ধরনের করবেন তার উপর নির্ভর করবে এই দুনিয়ায় ও আখিরাতে আপনার পরিনতি ।

আলোচকঃ মাশুক রহমান, কম্পিউটার প্রকৌশলী
 




www.amin-baig.blogspot.com/2013/09/blog-post_1456.html

দাজ্জালের মহাযুদ্ধ ও তাকে হত্যা



দাজ্জালের মহাযুদ্ধ ও তাকে হত্যা

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন,

“পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মানুষের মহাযুদ্ধ পাঁচটি। তার দুটি ইতিপূর্বে এই উম্মতের আগে বিগত হয়েছে। অবশিষ্ট তিনটি এই উম্মতের মাঝে সংঘটিত হবে। একটি হল তুর্কি মহাযুদ্ধ। একটি রোমানদের (খ্রিস্টিয়ানদের) সঙ্গে মহাযুদ্ধ। আর তৃতীয়টি হল, দাজ্জালের মহাযুদ্ধ। দাজ্জালের পর আর কোন মহাযুদ্ধ হবে না”।

(আল ফিতান, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৫৪৮, আসসুনানুল ওয়ারিদাতু ফিল ফিতান)

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে একটি পক্ষের নেতৃত্বে ছিল ইসলামী খেলাফতের সর্বশেষ কর্ণধার তুরস্কের অটোম্যান সাম্রাজ্য। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তাদের পরাজয়ের পর, ঈমানের দুর্বলতা আর ইহুদী খ্রিষ্টানদের উস্কে দেওয়া আরব জাতীয়তাবাদের উত্থানের কারণে ১৯২৪ সালে তুরস্কের অটোম্যান সাম্রাজ্যের অধীন খেলাফত শাসনের বিলুপ্তির মাধ্যমে মুসলমানদের ইসলামী শাসননীতি খেলাফতের যা অবশিষ্ট ছিল তারও বিলুপ্তি ঘটে। কুস্তুন্তুনিয়া বা ইস্তাম্বুলের ভূমি থেকে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা তথা ইসলামের পরাজয় ঘটে। কামাল পাশার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত হয় কট্টর ধর্ম নিরপেক্ষতাবাদ নামক কুফরি মতবাদের জয় হয়, যা এখনও বিদ্যমান।

রোমানদের (খ্রিস্টিয়ানদের) সঙ্গে এই উম্মতের যে মহাযুদ্ধ হবে তার নেতৃত্ব দিবেন ইমাম মেহেদী। আর দাজ্জালের সাথে যে মহাযুদ্ধ হবে তার নেতৃত্ব দিবেন ঈসা ইবনে মারিয়ম (আঃ)।

যদিও মুসলিম জাতি নিজেদের অলসতা ও অবহেলার কারণে আগত এক অনিবার্য বাস্তবতার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছে না, তবে কুফরি শক্তি ঠিকই এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং স্পষ্ট ভাষায় তার ঘোষণা দিয়ে বেড়াচ্ছে।

হযরত আবু জায়িরা বর্ণনায় বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এর নিকট দাজ্জালের আলোচনা উত্থাপিত হলে তিনি বললেন,

“তার আবির্ভাবের সময় মানুষ তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে। একদল তার অনুগামী হয়ে যাবে। একদল অভিভাবকের ভূমিকা নিয়ে পরিজনের সাথে ঘরে বসে থাকবে। একদল এই ফোরাতের তীরে এসে শক্তপায়ে দাঁড়িয়ে যাবে। দাজ্জাল তাদের সাথে যুদ্ধ করবে আর তারা দাজ্জালের সঙ্গে যুদ্ধ করবে। এমনকি তারা শামের (সিরিয়া, জর্ডান, লেবানন, প্যালেস্টাইন ও দখলকৃত প্যালেস্টাইন নিয়ে গঠিত বিস্তীর্ণ অঞ্চল) পশ্চিমাঞ্চলে লড়াই করবে। তারা একটি সেনা ইউনিট প্রেরণ করবে, যাদের মাঝে চিত্রা বা ডোরা বর্ণের ঘোড়া থাকবে। এরা ওখানে যুদ্ধ করবে। ফল এই দাঁড়াবে যে, এদের একজনও ফিরে আসবে না”।

(মুসতাদরাকে হাকেম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৬৪১)

হযরত নাফে’ ইবনে উকবা (রাঃ) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“ আমার অবর্তমানে তোমরা তোমরা জাজিরাতুল আরবে যুদ্ধ করবে। ফলে আল্লাহ এই অঞ্চলটিকে বিজিত করবেন। তারপর তোমরা পারস্যে যুদ্ধ করবে। আল্লাহ তাকেও বিজিত করবেন। তারপর তোমরা রোমানদের সাথে যুদ্ধ করবে। আল্লাহ তাকেও বিজিত করবেন। তারপর তোমরা দাজ্জালের সঙ্গে যুদ্ধ করবে। আল্লাহ তাকেও বিজিত করবেন”।

(সহিহ মুসলিম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২২২৫; সহিহ ইবনে হিব্বান, পৃষ্ঠা ৬৬৭২)

হযরত নাহীক ইবনে সারীম (রাঃ) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“নিঃসন্দেহে তোমরা মুশরিকদের (মূর্তিপূজারীদের) সঙ্গে যুদ্ধ করবে। এমনকি এই যুদ্ধে তোমাদের বেঁচে যাওয়া মুজাহিদরা উর্দুন (জর্ডান) নদীর তীরে দাজ্জালের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। এই যুদ্ধে তোমরা পূর্ব দিকে অবস্থান গ্রহণ করবে আর দাজ্জালের অবস্থান হবে পশ্চিম দিকে”।

(আল ইসাবা, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪৭৬)

এখানে মুশরিকদের দ্বারা উদ্দেশ্য উপমহাদেশের মূর্তিপূজারী জাতি। তার মানে এটি সেই যুদ্ধ – “গাজওয়াতুল হিন্দ”, যেখানে মুজাহিদরা এই উপমহাদেশে আক্রমণ চালাবে, আল্লাহ তাদেরকে বিজয় দান করবেন, ক্ষমা করে দেবেন, বেঁচে যাওয়া মুজাহিদরা জেরুজালেমে ফিরে যাবে এবং সেখানে ঈসা (আঃ) সাক্ষাত পাবে এবং ঈসা (আঃ) নেতৃত্বে দাজ্জালের বিরুদ্ধে মহাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে।

( সুনানে নাসায়ী, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪২; আল ফিতান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪০৯ ও ৪১০)

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) বলেছেন,

“সমুদ্রের শহীদান, আন্তাকিয়ার-আমাকের শহীদান ও দাজ্জালের শহীদান হল মহান আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠতম শহীদ”।

(আল ফিতান, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪৯৩)

এসব যুদ্ধের শহীদদের সম্পর্কে এক বর্ণনায় আরও বলা হয়েছে,

“উক্ত যুদ্ধে যে এক তৃতীয়াংশ লোক শহীদ হবে, তাদের এক একজন বদরি শহীদদের দশজনের সমান হবে। বদরের শহীদদের একজন সত্তরজনের জন্য সুপারিশ করবে। পক্ষান্তরে এই ভয়াবহ যুদ্ধগুলোর একজন শহীদ সাতশো ব্যক্তির সুপারিশের অধিকার লাভ করবে”।

(আল ফিতান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪১৯)

তবে মনে রাখতে হবে, এটি একটি শানগত মর্যাদা। অন্যথায় মোটের উপর বদরি শহীদদের মর্যাদা ইতিহাসের সকল শহীদের মাঝে সবচেয়ে উঁচু।

রোমানদের (খ্রিস্টিয়ানদের) সঙ্গে এই উম্মতের যে মহাযুদ্ধ হবে তার নেতৃত্ব দিবেন ইমাম মেহেদী। এই মহাযুদ্ধের বিজয়ের পর তিনি আবারও নব্যুওতের আদলে খেলাফত প্রতিষ্ঠা করবেন যার আমিরুল মুমিনিন হবেন তিনি নিজেই। আর এই মহাযুদ্ধের বিজয় কুস্তুন্তুনিয়া (ইস্তাম্বুল) বিজয়ের কারণ হবে। আর কুস্তুন্তুনিয়ার (ইস্তাম্বুলের) বিজয়, দাজ্জালের আবির্ভাবের কারণ হবে।

আর দাজ্জালের সাথে যে মহাযুদ্ধ হবে তার নেতৃত্ব দিবেন ঈসা ইবনে মারিয়ম (আঃ)। দাজ্জাল বিষয়ক হযরত হুজায়ফা (রাঃ) এর বর্ণিত এর সুবিস্তৃত হাদিসে হযরত ঈসা (আঃ) এর আগমনের ঘটনাটি নিম্নরূপ।

আল্লাহর রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“সত্তর হাজার ইহুদি দাজ্জালের পিছনে থাকবে, যাদের গাঁয়ে তারজানি চাদর জড়ানো থাকবে (তারজানি চাদরও তায়লাসানের মতো সবুজ চাদরকে বলা হয়)। অনন্তর জুমার দিন ফজর নামাজের সময় যখন নামাজের ইকামাত হয়ে যাবে, তখন যেইমাত্র মাহদি মুসল্লিদের পানে তাকাবেন, অমনি তিনি দেখতে পাবেন, ঈসা ইবনে মারিয়ম আকাশ থেকে নেমে এসেছেন। তার পরিধানে দুটি কাপড় থাকবে। মাথার চুলগুলো এমন চমকদার হবে যে, মনে হবে তার মাথা থেকে পানির ফোঁটা ঝরছে”।

একথা শুনে আবু হুরায়রা (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি তার কাছে যাই, তা হলে আমি তার সঙ্গে মু’আনাকা করব কি? উত্তরে রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন,

“শোনো আবু হুরায়রা, তার এই আগমন প্রথমবারের মতো হবে না। তার সঙ্গে তুমি এমন প্রভাবদীপ্ত অবস্থায় মিলিত হবে, যেমনটি মৃত্যুর ভয়ে মানুষ আতঙ্কিত হয়। তিনি মানুষকে জান্নাতের মর্যাদা ও স্তরের সুসংবাদ প্রদান করবেন। এবার আমিরুল মুমিনীন তাকে বলবে, আপনি সামনে এগিয়ে আসুন এবং লোকদেরকে নামাজ পড়ান। উত্তরে ঈসা বলবে, নামাজের ইকামত আপনার জন্য হেয়েছে। কাজেই ইমামতও আপনিই করুন। এভাবে ঈসা ইবনে মারিয়াম তার পেছনে নামাজ আদায় করবে”।

(আসসুনানুল ওয়ারিদাতু ফিল ফিতান, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১১১০)

হযরত মুজাম্মা’ ইবনে জারিয়া আনসারি (রাঃ) বর্ণনা করেন, আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি,

“ঈসা ইবনে মারিয়াম দাজ্জালকে ‘লুদ’ এর ফটকে হত্যা করবে।”

(মুসনাদে আহমাদ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪২০; সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ২২৪৪)

‘লুদ’ বর্তমানে ইসরাইলের অন্তর্ভুক্ত। এটি তেলআবিব থেকে দক্ষিন-পূর্বে ১৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত ছোট্ট একটি শহর। ১১৯৯ সালের জরিপ অনুযায়ী এই শহরের জনসংখ্যা ৬১ হাজার ১ শত। ইসরাইল এই শহরে সর্বাধুনিক নিরাপত্তা সমৃদ্ধ বিমানবন্দর স্থাপন করেছে। হতে পারে, দাজ্জাল এখান থেকে বিমানযোগে পালানোর চেষ্টা করবে এবং এই বিমানবন্দরেই তাকে হত্যা করা হবে। মহান আল্লাহ তার শত্রু ও ইহুদীদের খোদা দাজ্জালকে হযরত ঈসা ইবনে মারিয়াম(আঃ) এর হাতে হত্যা করাবেন, যাতে সমগ্র বিশ্ব বুঝতে পারে যে, মানবতার বিষফোঁড়াগুলোকে নির্মূল করতে হলে সেগুলোকে কেটে দেহ থেকে আলাদা করা জরুরী আর এই কাজটি জিহাদেরই মাধ্যমে হয়ে থাকে।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“মুসলমানরা ইহুদীদের সাথে যুদ্ধ না করা পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। মুসলমানরা ইহুদীদের হত্যা করবে। এমনকি ইহুদীরা পাথর ও গাছের আড়ালে লুকাবে। তখন পাথর ও গাছ বলবে, হে আল্লাহর বান্দা, এই যে আমার পেছনে এক ইহুদি লুকিয়ে আছে; তুমি এসে ওকে হত্যা করো। তবে ‘গারকাদ’ বলবে না। কেননা, সেটি ইহুদীদের গাছ”।

(সুনানে মুসলিম, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২২৩৯)

ইহুদীদের বিরুদ্ধে মহান আল্লাহ জড় পদার্থগুলোকেও বাকশক্তি দান করবেন। তারাও ইহুদীদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে। ইসরাইল যখন গোলান পর্বতমালায় দখল প্রতিষ্ঠা করেছে, তখন থেকেই তারা ওখানে ‘গারকাদ’ বৃক্ষ লাগাতে শুরু করেছে। এছাড়াও তারা স্থানে স্থানে এই গাছটি রোপণ করছে। সম্ভবত এই গাছের সঙ্গে তাদের বিশেষ কোন সম্পর্ক আছে।



by
Amin Baig