শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩

বিভিন্ন ধর্ম ও ইসলামে নারীর অধিকার নিয়ে তুলনা মূলক আলোচনা -১


 
 
বিভিন্ন ধর্ম ও ইসলামে নারীর অধিকার নিয়ে তুলনা মূলক আলোচনা -১

সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য এবং অসংখ্য দরুদ ও সালাম আমাদের প্রিয় নবী মোহাম্মাদ (সাঃ) তার সাহাবায়ে কেরাম সত্যের পথে সংস্কারক ও মুজাহিদ এবং সমস্ত মুসলমানদের উপর ।
ইসলামে নারীর অধিকার বিষয় সমূহ সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং মর্যাদা পূর্ণ জীবন সম্পর্কে ধারনা নারীদের জানা অতি প্রয়োজন। ইসলাম নারীর জীবনকে বিভিন্নভাবে সম্মানিত ও মর্যাদা দিয়েছেন। কখনও সে একজন মা,নানী,দাদী,বোন, মেয়ে, খালা,ফুফু হিসেবে অথবা বউ,শাশুড়ি বা স্ত্রী হিসেবে। ইসলাম নারীদেরকে যে সম্মান দান করেছে এবং তাদেরকে যেরূপ মূল্যায়ন করেছে তা অন্য কোন ধর্মে নেই।
ইসলামে নারীদের অধিকার সম্পর্কে উপস্থাপনের পূর্বে প্রথমে অন্যান্য জাতির নিকট তাদের মর্যাদা এবং তাদের সাথে কি ধরনের আচরণ করা হত, সে সম্পর্কে কিছু তুলনা মূলক আলোচনা পেশ করছি।
১) রোমান সভ্যতায় নারীঃ
রোমানরা নারীদেরকে একটি প্রাণহীন বস্তু বলে গণ্য করতো, নারীদেরকে কোন অধিকার এবং মূল্য তাদের নিকট ছিলনা । তাদের কথা হল নারীদের আত্মা নেই। তাই তাদেরকে খুঁটির সাথে বেঁধে শরীরে গরম ও ফুটন্ত তেল ঢেলে মর্মান্তিক শাস্তি দেওয়া হত। কখনো কখনো এই নিষ্পাপ নারীদেরকে দ্রুতগামী ঘোড়ার লেজের সাথে বেধে দ্রুতগতিতে ছুটিয়ে তাদের প্রাণনাশ করা হত।
২) হিন্দু ধর্মে নারীঃ
হিন্দু ধর্মে নারীর অবস্থা আরও জঘন্য ছিল। তারা স্বামীর মরার সাথে সাথে স্বামীর চিতায় পুড়িয়ে ধংস করে দিত।(যাকে সতীদাহ প্রথা বলা হয়)
৩) ইউনানিদের নিকটঃ
ইউনানিদের নিকট মেয়েরা ছিল বেচা কেনার সামগ্রী। তাদের কোন প্রকার অধিকার ছিল না। সমস্ত অধিকার পুরুষদের জন্যই বরাদ্ধ ছিল। মিরাস থেকে তারা ছিল বঞ্চিতা। ধনসম্পদে তাদের কোন হস্তক্ষেপ করতে দেয়া হতনা।প্রসিদ্ধ দার্শনিক শুকরাতের বক্তব্য হল: পৃথিবীর অধঃপতনের বড় ও প্রধান কারণ হলো নারীদের অস্তিত্ব। নারীরা হল এমন একটি বিষাক্ত বৃক্ষের মত যার বাহ্যিক অতি সুন্দর কিন্তু চড়ুই পাখি যখনই সেই বৃক্ষের ফল ভক্ষণ করে সঙ্গে সঙ্গে ্মেত্যু বরন করে ।
৪) ইহুদিদের নিকট নারীঃ
ইহুদীরা নারীদের মনে করে এক অভিশপ্ত প্রাণী। কারণ এই নারীই নাকি আদমকে পথভ্রষ্ট করেছে এবং তাকে নিষিদ্ধ বৃক্ষের ফল ভক্ষণ করতে বাধ্য করেছে। অনুরূপ তারা নারীকে অপবিত্র মনে করে। তাই যখন তার মাসিক হয় তখন সমস্ত ঘর ও তার স্পর্শীয় সমস্ত বস্তু অপবিত্র হয়ে যায় । অনুরূপ ভাই এর উপস্থিতিতে পিতার সম্পদ থেকে সে মিরাসও পেত না।
৫) খ্রিস্টানদের নিকট নারীঃ
খ্রিস্টানদের নিকট নারী হল শয়তান। খ্রিস্টানদের ধর্মের একজন পুরোহিতের কথা হল, মানব জাতির সাথে নারীর কোন সম্পর্ক নেই। সাধু বুনাফানতুর বলেন, “যখন কোন নারীকে দেখবে তখন এটা মনে করবেনা যে তোমরা কোন মানব মূর্তি দেখেছ, এমনকি কোন চতুষ্পদ পশুও না বরং যা দেখেছ, তা নিছক শয়তান। আর তা হতে যা শুন তা হল, আজদাহার বাঁশি।”
১৫৬৭ সালে স্কটল্যান্ড পার্লামেন্টের এ আইন প্রণয়ন হয় যে, নারীদেরকে কোন কিছুর উপর আধিপত্য দেওয়া বৈধ নয়। অনুরূপ ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সপ্তম হেনরির যুগে নারীদের জন্য ইঞ্জিল পাঠ নিষিদ্ধ করে দেয়। কারণ তারা অপবিত্র। নারীরা মানুষ কিনা এ ব্যাপারে পযবেক্ষনের জন্য ১৫৮৯ খ্রিস্তাব্দে ফ্রান্সের একটি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এবং তাতে এটাই স্বীকৃতি পায় যে, নারীরা মানুষ, তবে তাদেরকে পুরুষের সেবার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।
ব্রিটিশ আইনানুযায়ী ১৮০৫খ্রীঃ পর্যন্ত স্বামীর জন্য বউকে বিক্রয় করা অনুমদিত ছিল। ছয় পেনই পর্যন্ত তার মূল্য নিরধারিত ছিল।
ইসলাম আবির্ভাবের পূবে আরবের নারীরা ছিল খুবই তুচ্ছ, ত্যাজ্য ও হেয়প্রতিপন্না।না তারা মিরাস পেত, না কোন অধিকার। এমনকি তাদেরকে কোন কিছুই গণ্য করা হতনা ।আবার অনেকে তাদের মেয়দেরকে জীবন্ত কবর দিত। অতঃপর নারীদেরকে নির্যাতন ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি দিতে এবং নারী পুরুষ সকলে সমান পুরুষের ন্যায় তাদেরও অধিকার আছে এর উদাত্ত ঘোষণা দিতে আবির্ভাব হয় ইসলাম।
 
 
by  Amin Baig

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন